হারিয়ে যাওয়া প্রায় একটি সুন্নাহ…দেখুন তো আপনি কখোনো তা পালন করেছেন কি?

Image

আমরা  সদা সর্বদা পোস্ট লিখি সবাই তা পড়ে সুন্দর সুন্দর কমেন্টস করে তার পর সময়ের গর্ভে সেই পোস্ট হারিয়ে যায় অথবা আমরা সেই পোস্টকে ভুলে যাই।

আমরা খুব কমেই স্বরণ রাখি সেই পোস্ট গুলোকে। আবার অনেকে আছে যে সেই পোস্টের কথা গুলোকে স্বরণ রাখে (যেগুলো সঠিক) এবং নিজের জীবনে কাজে লাগাতে সচেস্ঠ হয়। তারাই বুদ্ধিমান।

তবে এটা আশা করা যায় আমাদের নিয়ত অনুযায়ী আমরা আমাদের প্রতিদান পাবো ইনশাআল্লাহ।তাই যারা ব্লগ পড়ে বা লিখে তাদের সবার ভালো নিয়ত গুলো আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা গ্রহন করুন। আমিন।

আজকে আপনাদের কাছে একটা সুন্নাহ নিয়ে এসেছি যা আজ আমাদের কাছে প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। আজ আমরা এই সুন্নাকে দেখতে পাই না। অনেকে আছেন যারা এই সুন্নাহকে প্রতিস্ঠিত করেন, কিন্তু সেই সুন্নাহ প্রতিস্ঠাকে অনেকে অজানা সত্বে বিদ’আত মনে করে।

প্রথমে সেই সুন্নাতে নিয়ে যাবার আগে আপনাদেরকে দুটি সহিহ হাদিস শুনাই,

নবী ﷺ বলেন, তোমাদের সামনে অপেক্ষা করছে ধৈর্যের দিন। বতমানে তোমরা যে আমলের উপর রয়েছো ঐ সময়ে যে ব্যাক্তি এই কাজগুলো দৃঢ়ভাবে করবে সে তোমাদের পঞ্চাশ জনের সওয়াব পাবে। তারা বললো, হে আল্লাহর নবী ﷺ তা কি তাদের পঞ্চাশ জনের মত? তিনি ﷺ বললেনঃ না, বরং তোমাদের পঞ্চাশ জনের মত। তারা বরলো, হে আল্লাহর নবী! তা কি তাদের তাদের পঞ্চাশ জনের মত? তিনি ﷺ বললেনঃ না, বরং তোমাদের পঞ্চাশ জনের মত। কথাটি তিনবার বা চরবার পুনরাবিত্তি করেন।

(হাদিস সহিহ, ত্বাবারাণী হা/১৩৭৬, সিলসিলাহি সহিহা হা/১২২১৫ “অন্য বণনায় রয়েছে ”তোমাদের পঞ্চাশ জন শহীদের সমান”-কিন্তু এর সানাদ যঈফ দেখুন সহিহা হা/৪৯৪ যঈফা হা/৩৯৫৯, তাহকীক মিশকাত হা/৫১৪৪)

রসুল ﷺ বলেছেন,

“দ্বীন ইসলাম সূচনায় যেমন অপরিচিত ও প্রভাবহীন ছিল তেমনি অবস্থা পরেও দেখা দিবে। এই সময়কার এই অপরিচিত লোকদের জন্য সুসংবাদ। আর এই অপরিচিত লোক হচ্ছে তারা, যারা আমার পরে আমার সুন্নাতকে বিপর্যস্ত করার যাবতীয় কাজকে নিমূল করে সুন্নাতকে পুনঃপ্রতিস্ঠা করতে চেস্ঠিত হবে”

(তিরমিজি, শায়খ আলাবানী হাদিটিকে সহিহ বলেছেন)

হারিয়ে যাওয়া মতো প্রায় সেই সুন্নাহ: 

১ম হাদিস:

আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা) হতে বর্ণিত, একদা নবী ﷺ দুবার বললেন, “তোমরা মাগরিবের পূর্বে দুই রাকাত নামাজ পড়” অতঃপর তৃতিয় বারে তিনি বললেন, যার ইচ্ছা হবে”

(সহিহ আল বুখারী হা/১১৮৩,৭৩৬৮, আবু দাউদ হা/১২৮১, আহমাদ ২০০২৯, রিয়াজুস সলেহিন হা/১১২৯)

২য় হাদিস:

আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসুল ﷺ এর বড় বড় সাহাবীদেরকে দেখেছি, তারা মাগরিবের সময় থামগুলোর দিকে দ্রুত বেগে অগ্রসর হতেন।(দুই রাকাত সুন্নাত সালাত পড়ার উদ্দেশ্যে)

(সহিহ আল বুখারী হা/৫০৩,৬২৫, মুসলিম হা/৮৩৬,৮৩৭, নাসায়ী হা/৬৮২, আবু দাউদ হা/১২৮২, ইবনু মাজাহ হা/১১৬৩, আহমাদ হা/১১৯০১, দারেমী হা/১৪৪১, রিয়াজুস সলেহিন হা/১১৩০)

৩য় হাদিস:

আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রসুল ﷺ এর যুগে সূযাস্তের পর মাগরেবের ফরজ নামাজের আগে দু রাকাত সুন্নত পড়তাম। তাকে জিগ্গাস করা হলো নবী ﷺ ঐ দুই রাকাত পরেতেন কি? তিনি বললেন, “তিনি ﷺ আমাদেরকে ওই দুই রাকাত পড়তে দেখতেন কিন্তু আমাদেরকে (তার জন্য) আদেশ করতেন না এবং তা থেকে বারণও করতেন না।

(সহিহ আল বুখারী হা/৪৩৭০,সহিহ আল মুসলিম হা/৮৩৬, নাসায়ী হা/৬৮২, আহমাদ হা/১১৯০১, রিয়াজুস সলেহিন হা/১১৩১)

৪থ হাদিস:

আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মদিনাতে ছিলাম। যখন মুআযযিন মাগরিবের আযান দিত, তখন লোকেরা থামগুলোর দিকে দ্রুত অগ্রসর হত এবং দু রাকাত সালাত পড়ত। এমনকি কোন বিদেশি অচেনা মানুষ মসজিদে এলে অধিকাংশ লোকের ঐ দুই রাকাত পড়া দেখে মনে করত যে, (মাগরিবের ফরজ) সালাত পড়া হয়ে গেছে (এবং তারা পড়ের সুন্নত পড়ছে)

(মুসলিম হা/৮৩৬,৮৩৭, বুখারী হা/৬২৫, রিয়াজুস সলেহিন হা/১১৩২)

হে মুসলিম,মুমিন ভাই ও বোন,

এত গুলো সহিহ হাদিস থাকার পড়ও কি এই সুন্নাহ পালন করার কোন বাধা খাকে? তাহলে কিসে আপনাদেরকে এই সুন্নাহ পালনে বাধা দান করছে? আপনার কাছে সমাজের লোক লজ্জা বড় নকি সহিহ হাদিস অনুসরন? আপনি কেন এই দু রাকাত সুন্নত সালাত পড়তে দিধা করেন? আপনি কাকে ভালোবাসেন? আপনি কাকে অনুসরন করেন?

আশা করি আজকের পড় আপনি এই সুন্নাহকে প্রতিস্টিত করতে সচেস্ট হবেন। কোন বিরুদ্ধবাদীর কথা আপনাকে প্রভাবিত করতে পাড়বেনা। কেউ আপনাকে এই সুন্নাহ পালন করার জন্য দলিল জানতে চাইলে আর আপনার কোন সমস্যা থাকবে না। কে আপনাকে বাকা চোখে দেখল তা আর আপনার হৃদয় ব্যাথিত করবে না। সহিহ সুন্নাহকে অনুসরন করতে আজ কের পড় আপনার আর কোন বাধা থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

আর আমার এই লেখা পড়ে শুকরিয়া জানাবেন তাতে কোন সন্দেহ নাই কিন্তু আমার আকুল আবেদন আপনাদের কাছে এই হাদিস গুলো শুধু পড়ার মাঝেই রাখবেন না নিজের জীবনে প্রতিফলিত করবেন তাহলে আপনি সত্যিকারের অর্থে রসুল ﷺ ও তার সাহাবা (রা) দেরকে অনুসরন করার মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়ে যাবেন ইনশা্অল্লাহ।

সবশেষে আপনাদেরকে আমি কোরআনের একটি আয়াত ও একটি সহিহ হাদিস স্বরণ করিয়ে দিতে চাই, আল্লাহ সুবহানাহু তাআ’লা সুরা নিসা ৬৯ আয়াতে বলেন,

আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম।

(সুরা নিসা ৪/৬৯)

আবু হুরায়রা (রা) বলেন,

রসুল ﷺ বলেছেন: আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যে, যদি তোমরা এর উপর আমল করো তবে কখোনো গোমরাহ হবে না। প্রথমত: ”আল্লহার কিতাব” দ্বীতিয়ত: ”আমার সুন্নাহ”

(সহীহ, আল জামেউস সাগীর হা/২৯৩৪)

ওয়ামা তাওফিকি ইল্লাহ বিল্লাহ।

(অনুমতি ছারাই লেখাটি আপনারা আপনাদের যেকোন মিডিয়াতে দিতে পাড়েন তবে লিংকটি দিয়ে দিবেন প্লিজ)

Advertisements

এই সাইডটি ভিজিট করার সময় আপনি যাদি কোন অশ্লীল এডভাটাইজমেন্ট দেখেন তাহলে একটু হোমপেজের পাশে “এডভাটাইজমেন্ট মুক্ত ব্রাউজিং করুন” পাতাটি দেখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s