হানাফী আলেম আব্দুল মতিন সাহেব লিখিত ‘দলিলসহ নামাযের মাসায়েল’ (প্রকাশক : মাকতাবাতুল আযহার, ঢাকা-এপ্রিল’২০১১) এর জবাব নিচে দেয়া হল। পর্ব-০১

দলিলসহ নামাযের মাসায়েলএর জবাব

 দলিল

হানাফী আলেম আব্দুল মতিন সাহেব লিখিত দলিলসহ নামাযের মাসায়েল (প্রকাশক : মাকতাবাতুল আযহার, ঢাকাএপ্রিল২০১১) এর জবাব নিচে দেয়া হল। তাঁর উপস্থাপিত দলিল ও আলোচনা লেখক শিরোনামে এবং আমাদের জবাব বিশ্লেষণ শিরোনামে উল্লেখ করা হল। বইটির আলোচ্য বিষয়গুলো এর সূচীপত্র থেকে জেনে নেয়া যাক।

সূচীপত্র
ইকামতের বাক্য গুলো দু’বার করে বলা সুন্নত ৪
নামাযে কব্জির উপর হাত বেঁধে নাভির নীচে রাখা সুন্নত ২১
প্রসঙ্গ: ছানা পড়া ৩৩
মুকতাদী সূরা ফাতেহা পড়বেনা ৩৭
নামাযে নিম্নস্বরে আমীন বলা সুন্নত ৫৫
শুধু তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত তোলা সুন্নত ৭১
সেজদায় যাওয়ার সময় আগে হাঁটু, পরে হাত, তারপর চেহারা রাখা সুন্নত ৮৩
প্রথম রাকাত শেষ করে সোজা উঠে দাঁড়ানো সুন্নত ৪৪
নামাযে ১ম ও শেষ বৈঠকে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা ও ডান পা খাড়া রাখা সুন্নত ৪৫
বিতর নামায পড়ার তরীকা ৫৫
জুমআর আগের ও পরের সুন্নত ৬০
ঈদের নামাযে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর সুন্নত ৭০
জানাযার নামায পড়ার পদ্ধতি ৭৫
তারাবী বিশ রাকাত পড়া সুন্নত ৮০
মহিলাদের নামায-পদ্ধতি পুরুষের নামাযের মত নয় ৯৩

উপরোক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে যেগুলো কুরআন ও সহীহ হাদীসের বিরোধী বরং জাল, যঈফ ও মাওযু‘ হাদীস ও মানুষের মতের ভিত্তিতে রচিত হয়েছে – আমরা কেবল সেগুলোর বিশ্লেষণমূলক জবাব উল্লেখ করছি।

প্রথম অধ্যায় : ইকামাতের বাক্য (পৃ: ১৩২০)

এ অধ্যায়ে লেখকের শেষের মন্তব্যগুলো থেকে প্রমাণিত হয়, তিনি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের উল্লিখিতে ইক্বামত বেজোড় বাক্যে বলার হাদীসকে তিনি সহীহ হিসাবে মেনে নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন : (পৃ: ২০)
পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই। ইকামাতের বাক্যগুলো একবার করে বলা হবে না দুবার করে, এ নিয়ে ফকীহ ইমামগণের মধ্যেও দ্বিমত ছিল। কিন্তু ঝগড়া ছিল না। বরং ইমাম ইবনু আব্দিল বার র. উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ, ইসহাক, দাউদ যাহেরী ও ইবনে জারীর তাবারী র. প্রমুখ এ দ্বিমতকে বৈধ মতানৈক্য আখ্যা দিয়েছেন, এবং বলেছেন যেভাবেই করুক জায়েয হবে। এমনকি লামাযহাবী আলেম তিরমিযী শরীফের ভাষ্যকার মুবারকপুরী সাহেবও লিখেছেন, একবার করে বলা বা দুবার করে বলা উভয়টাই আমার দৃষ্টিতে বৈধ। তাহলে এতে ঝগড়ার কি আছে। কেন বলা হচ্ছে দুবার করে বলার কথা কোন হাদীসে নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করেন।

উক্ত উদ্ধৃতি থেকে প্রমাণিত হল, যারা ইক্বামত বেজোড় বাক্যে বলছেন তাদের আমলটিও লেখকের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং এ ব্যাপারে ঝগড়া করা তাঁর কাছে ঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে হাদীস অনুসরণের দাবী হল, সর্বাপেক্ষা সন্দেহমুক্ত ও সর্বাধিক সনদে বর্ণিত হাদীসের প্রতি আমল করা। এখন আমরা লেখকের শেষ বাক্যের অংশবিশেষ “কেন বলা হচ্ছে দুবার বলার কথা কোন হাদীসে নেই” বিশ্লেষণ করব। কেননা তিনি নিজের বাক্যের মধ্যে একটি ফাঁক রেখেছেন। আর তা হল : “কেন বলা হচ্ছে … হাদীসে নেই” কিন্তু বলেন নি “কেন বলা হচ্ছে … সহীহ হাদীসে নেই।” আসলে এখানেই লেখক নীরব!! লেখক এ সম্পর্কে হাদীস উল্লেখ করলেও সেগুলো সহীহ না যঈফ তার বিশ্লেষণ উল্লেখ করেন নি। অথচ সাধারণভাবে এটা বলাই যথেষ্ট সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের সন্দেহমুক্ত হাদীস ছেড়ে যঈফ হাদীস গ্রহণ করাটা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। আসুন আমরা প্রথমে সহীহ হাদীসগুলো জেনে নিই।

) সহীহ বুখারী থেকে :
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أُمِرَ بِلاَلٌ أَنْ يَشْفَعَ، الأَذَانَ، وَأَنْ يُوتِرَ الإِقَامَةَ‏.‏ قَالَ إِسْمَاعِيلُ فَذَكَرْتُ لأَيُّوبَ فَقَالَ إِلاَّ الإِقَامَةَ
আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) ……আনাস (রা) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল (রা)-কে আযানের বাক্যগুলো দু’ দু’বার এবং ইকামতের শব্দগুলো বেজোড় বলার নির্দেশ দেওয়া হল। ইসমাঈল (রহ) বলেন, আমি এ হাদীস আইয়্যূবের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, তবে ‘কাদ্‌কামাতিস্‌ সালাত ’ ব্যতীত। [সহীহ বুখারী – কিতাবুল আযান, অনুচ্ছেদ : ক্বাদ কামাতিস্-সলাতুল ছাড়া ইক্বামাতের শব্দগুলো একবার করে বলা]

) সহীহ মুসলিম থেকে :
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ جَمِيعًا عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِى قِلاَبَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ أُمِرَ بِلاَلٌ أَنْ يَشْفَعَ الأَذَانَ وَيُوتِرَ الإِقَامَةَ. زَادَ يَحْيَى فِى حَدِيثِهِ عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ فَحَدَّثْتُ بِهِ أَيُّوبَ فَقَالَ إِلاَّ الإِقَامَةَ.
খলাফু ইবনু হিশাম …. আনাস (রা) থেকে । তিনি বলেন : বিলালকে আযানের শব্দ জোড় সংখ্যায় এবং ইক্বামতের শব্দ বেজোড় সংখ্যায় বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইয়াহইয়া তার বর্ণনায় ইবনে উলাইয়ার সূত্রে বলেছেন, তিনি আইউবের কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেন কিন্তু ‘ক্বদ কামাতিস সলাত’ দু’বার বলতে হবে।” [সহীহ মুসলিম – কিতাবুস সালাত, باب الأَمْرِ بِشَفْعِ الأَذَانِ وَإِيتَارِ الإِقَامَةِ ]

) আবূ দাউদ থেকে :
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ يُحَدِّثُ عَنْ مُسْلِمٍ أَبِى الْمُثَنَّى عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ إِنَّمَا كَانَ الأَذَانُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَالإِقَامَةُ مَرَّةً مَرَّةً غَيْرَ أَنَّهُ يَقُولُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ فَإِذَا سَمِعْنَا الإِقَامَةَ تَوَضَّأْنَا ثُمَّ خَرَجْنَا إِلَى الصَّلاَةِ
মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ….. ইবনে উমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (স)এর সময়ে আযানের শব্দ দু’বার করে এবং ইক্বামতের শব্দ একবার করে বলা হত। কিন্তু ইক্বামতের মধ্যে ‘ক্বদ কামাতিস সালাহ’ শব্দটি দু’বার বলা হত। আমরা মুআযযিনের ইক্বামত শুনে অযু করতে যেতাম অতঃপর সালাত আদায় করতে যেতাম।” [আবূ দাউদ – কিতাবুস সালাত, باب فِى الإِقَامَةِ ; ইবনে খুযায়মাহ(হা/৩৭৪), ইবনে হিব্বান (হা/২৯০,২৯১), হাকিম (১/১৯৭, ১৯৮) প্রমুখ সহীহ বলেছেন; যাহাবী চুপ থেকেছেন। এর সনদ হাসান। কেননা এর আরো সাক্ষ্য সহীহ আবূ আওয়ানাহ ১/৩২৯ ও দারা কুতনীতে (১/২৩৯) আছে।]

) ইবনে মাজাহ থেকে :
حدثنا هشام بن عمار . حدثنا عبد الرحمن بن سعد . حدثنا عمار بن سعد مؤذن رسول الله صلى الله عليه و سلم . حدثني أبي عن أبيه عن جده – أن أذان بلال كان مثنى مثنى . وإقامته مفردة
“হিশাম ইবনে আম্মার (রহ) … রসূলুল্লাহ (স)এর মুয়াযযিন আম্মার ইবনে সা‘দ (রা)-এর পিতামহ থেকে বর্ণিত যে, বিলাল (রা)এর আযান ছিল দুই দুই (বাক্যে) এবং ইক্বামত ছিল এক এক (বাক্যে)।” [ইবনে মাজাহ – কিতাবুস সালাত باب إفراد الإقامة, এই হাদীসটি যঈফ। কিন্তু পূর্বের সহীহ হাদীসগুলোর সাক্ষ্যমূলক হিসাবে হাদীসটি হাসান]
حدثنا أبو بدر عباد بن الوليد . حدثني معمر بن عبيد الله بن أبي رافع مولى النبي صلى الله عليه و سلم . حدثني أبي محمد بن عبيد الله عن أبيه عبيد الله عن أبي رافع قال – رأيت بلالا يؤذن بين يدي رسول الله صلى الله عليه و سلم مثنى مثنى ويقيم واحدة
“আবূ বদর ‘আব্বাদ ইবনে ওয়ালীদ (র) …. আবূ রাফে‘ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমি বিলাল (রা)-কে রসূলুল্লাহ (স)এর সামনে আযানে প্রতিটি কলেমা দুইবার করে এবং ইক্বামাতে প্রতিটি কলেমা একবার করে বলতে দেখিছি।” [ইবনে মাজাহ – কিতাবুস সালাত باب إفراد الإقامة, এই হাদীসটি যঈফ। কিন্তু পূর্বের সহীহ হাদীসগুলোর সাক্ষ্যমূলক হিসাবে হাদীসটি হাসান]

) নাসাঈ থেকে :
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ تَمِيمٍ قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنْ شُعْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ مُؤَذِّنَ مَسْجِدِ الْعُرْيَانِ عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى مُؤَذِّنِ مَسْجِدِ الْجَامِعِ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ الْأَذَانِ فَقَالَ كَانَ الْأَذَانُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثْنَى مَثْنَى وَالْإِقَامَةُ مَرَّةً مَرَّةً إِلَّا أَنَّكَ إِذَا قُلْتَ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ قَالَهَا مَرَّتَيْنِ فَإِذَا سَمِعْنَا قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ تَوَضَّأْنَا ثُمَّ خَرَجْنَا إِلَى الصَّلَاةِ
“আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (র) … জামে মাসজিদের মুয়াযযিন আবুল মুসান্না (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-কে আযান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন : রসূলুল্লাহ (স)এর যুগে আযানের শব্দগুলো দু’ দু’বার এবং ইক্বামতের শব্দগুলো এক-একবার বলা হত। কিন্তু তুমি যখন ‘ক্বদ কামাতুস সালাহ’ বলবে (তখন দু’বার বলবে)। কারণ আমি [নবী (স)এর মুয়াযযিনকে] ‘ক্বদ কামাতুস সালাহ’ দু’বার বলতে শুনেছি। আমরা যখন ‘ক্বদ কামাতুস সালাহ’ বলার আওয়াজ শুনতাম, তখন অযু করতাম এবং সালাতের জন্য যেতাম।”[নাসাঈ – কিতাবুস সালাত كَيْفَ الْإِقَامَةُ ; ইবনে খুযায়মাহ(হা/৩৭৪), ইবনে হিব্বান (হা/২৯০,২৯১), হাকিম (১/১৯৭, ১৯৮) প্রমুখ সহীহ বলেছেন; যাহাবী চুপ থেকেছেন। এর সনদ হাসান। কেননা এর আরো সাক্ষ্য সহীহ আবূ আওয়ানাহ ১/৩২৯ ও দারা কুতনীতে (১/২৩৯) আছে।]
সুস্পষ্ট হল, নবী (স)এর যামানাতে এবং বিলাল (রা)-কে যে ইক্বামাত শেখানো হয়েছিল, তার সবচাইতে সহীহ মতন হল, বেজোড় ভাবে ইক্বামত বলা। যা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে সহীহ ও হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে।
তাছাড়া হাদীসের নীতিমালা সম্পর্কে হানাফী আলেম শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ) লিখেছেন :
وبالجملة ما اتفق عليه الشيخان مقدم على غيره ثم ما تقردبه البخارى ثم ما تفرد به مسلم ثم ما كان على شرط البخارى ومسلم ثم ما هو على شرط البخارى ثم ما هو على شرط مسلم ثم ما رواه من غيرهم
“যে বাক্যের ব্যাপারে শায়খাইন (তথা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে) ঐকমত্য হয়েছেন তা অন্যদের তুলনায় অগ্রগণ্য হবে। এরপর যে হাদীসটি একাকী সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, অতঃপর যে হাদীসটি একাকী সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। এরপর যে হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের শর্তে (অন্য কিতাবে) বর্ণিত হয়েছে। এরপর যা কেবল সহীহ বুখারীর শর্তে (অন্য কিতাবে) বর্ণিত হয়েছে। এরপর যা কেবল সহীহ মুসলিমের শর্তে (অন্য কিতাবে) বর্ণিত হয়েছে। এরপর যা অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (সেগুলো বিবেচ্য হবে)।”[মুক্বাদ্দিমাতুল মিশকাত (ঢাকা : আল-আকসা লাইব্রেরী) পৃ: ৭১]
শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী হানাফী (রহ) লিখেছেন :
اما الصحيحان فقد اتفق المحدثون على ان جميع ما فيهما من الْمتصل الْمرفوع صحيح بالقطع وانّهما متواتران الَى مصنفيهما وانه كل يهون امرهُما فهو مبتدع غير سبيل المؤمنين وان شئت الْخق الصراح فقسهما بكتاب ابن ابِى شيبة وكتاب الطحاوى ومسند الْخوارزمى وغيْرهما تِجد بينها وبينهما بعد الْمشرقين
“অবশ্য সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের ব্যাপারে সমস্ত মুহাদ্দিস একমত যে, এই দুই গ্রন্থে যে সব মুত্তাসিল, মারফু‘ বর্ণনা অকাট্যরূপে সহীহ। যা গ্রন্থাকারদ্বয়ের কাছে মুতওয়াতির হিসাবে বর্ণিত হয়েছে। এ গুলোর ব্যাপারে যে অবহেলা করবে সে বিদ‘আতী। সে ঈমানদারদের পথ ছেড়ে ভিন্ন পথে পা বাড়িয়েছে। যদি এ সত্যটি সুস্পষ্ট ভাবে বুঝতে চান, তাহলে ঐ গ্রন্থদ্বয়ের সাথে ইবনে আবী শায়বাহর কিতাব, তাহাবীর কিতাব ও মুসনাদে খাওয়ারিযমীর তুলনা করুন। তাহলে সেক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য দেখতে পাবেন।” [হুজ্জাতল্লাহিল বালিগাহ (ঢাকা : রশীদ বুক হাউস) ২/১২৬ পৃ:]
আমরা পরবর্তী আলোচনায় দেখবো আমাদের লেখক সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের ঐকমত্যের বিরোধিতায় কিভাবে ইবনে আবী শায়বাহ, তাহাবী, অন্যান্য সুনান ও মুসনাদের গ্রন্থকে ব্যবহার করেছেন। যা সুস্পষ্ট বিদ‘আত ও মু’মিনদের বিরোধী পথ (সুরা নিসা : ১১৫)। উল্লেখ্য, কুরআনের দাবী অনুযায়ী যা আল্লাহ নাযিল করেছেন তা পরস্পর বিরোধী হবে না (সূরা নিসা : ৮২)। নবী (স)এর হাদীস অনুযায়ী কিতাবের একাংশকে অপরাংশ দ্বারা দলিল উপস্থাপন করে বিতর্ক স্থায় রাখা যাবে না (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)। পক্ষান্তরে নাসারা ও ইয়াহুদীরা নিজেদের ইঞ্জিল ও তাওরাতের বাক্যগুলো পরস্পরের বিরোধী হিসাবে উপস্থাপন করে নিজেদের পান্ডিত্য জাহির করত। যা কুরআন ও সহীহ হাদীসে তাদের ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উম্মাতের ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসাবেও হাদীসে একই বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে বুঝা যায়, হাদীস যাচাই-বাছাই পদ্ধতি এজন্যে বের করা হয়েছে, যেন হাদীসের মধ্যে মানবীয় বিকৃতি ও চিন্তা থেকে যেগুলো প্রবেশ করেছে সেগুলোকে চিহ্নিত করা যায়। আসুন এখন আমরা দেখি কিভাবে সহীহ হাদীসের মোকাবেলায় এই উম্মাতের ধ্বংসপ্রাপ্তরা যঈফ ও জাল হাদীস উপস্থাপন করে।

লেখক (পৃ: ১৩) : ইকামতের বাক্য গুলো দু’বার করে বলা সুন্নত
১. হযরত আব্দুর রাহমান ইবনে আবী লায়লা র. বলেন
حَدَّثَنَا أَصْحَابُ مُحَمَد صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؛ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ زَيْدٍ الأَنْصَارِيَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ رَجُلاً قَامَ وَعَلَيْهِ بُرْدَانِ أَخْضَرَانِ عَلَى جِذْمَةِ حَائِطٍ ، فَأَذَّنَ مَثْنَى ، وَأَقَامَ مَثْنَى ، وَقَعَدَ قَعْدَةً ، قَالَ : فَسَمِعَ ذَلِكَ بِلاَلٌ ، فَقَامَ فَأَذَّنَ مَثْنَى ، وَأَقَامَ مَثْنَى ، وَقَعَدَ قَعْدَةً. رواه ابن ابى شيبة فى المصنف (۲۱۳۱)
واخرجه الطحاوى ۱\۱۰۰-۱۰۲ وابن خزيمة فى صحيحه ۳٨۰ والبيهقى ۱\٤۲۰ من طريق ابن ابى شيبة. قال ابن حزم الظاهرى : هذا اسناد فى غاية الصحة. وقال الماردينى فى الجوهر النقى : رجاله على شرط الصحيح
অর্থ: হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একাধিক সাহাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আল আনসারী রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে দেখলাম, এক ব্যক্তি যার পরনে ছিল সবুজ রং এর একজোড়া কাপড়- যেন দেয়ালের একাংশে দাঁড়িয়ে জোড়া জোড়া শব্দে আযান দিলেন এবং ইকামাতও দিলেন জোড়া জোড়া শব্দে। আর কিছু‏ক্ষণ (মাঝখানে) বসে রইলেন, তিনি বলেন, পরে বিলাল রা. তা শুনলেন এবং তিনিও জোড়া জোড়া শব্দে আযান দিলেন, জোড়া জোড়া শব্দে ইকামাত দিলেন। আর (আযান ও ইকামাতের মাঝখানে) একটু বসলেন। ইবনে আবী শায়বা রা. আল মুসান্নাফ, হাদীস নং (২১৩১) তাহাবী. ১ম খৃ: ৪২০ পৃ. সহীহ ইবনে খুযাইমা হা.৩৮০ সুনানে কুবরা, বাইহাকী ১/৪২০
ইবনে হায্ম বলেছেন, এ হাদীসটির সনদ অত্যন্ত সহীহ। আলাউদ্দীন মারদীনী রহ. বলেছেন – এটি সহীহ হাদীসের মানোত্তীর্ণ।
বিশ্লেষণ : এই হাদীসটি তাবেঈ আব্দুর রহমান বিন আবী লায়লা থেকে নানা রকম সন্দেহযুক্ত সনদে বর্ণিত হয়েছে। যেমন –
ক) কখনো বর্ণনা করেছেন নামহীন সাহাবীদের মধ্যস্থতায় সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আল আনসারী (রা) থেকে। (লেখকের উল্লিখিত ১ নং)
[এই সনদটিতে আ‘মাশ আছেন। তিনি মুদাল্লিস এবং তিনি ‘আন দ্বারা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হাদীসটি যঈফ।]
খ) কখনো সরাসরি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আল আনসারী (রা) থেকে। (লেখকের পরবর্তী ২ নং) আবার
গ) কখনো সাহাবী মু‘আয বিন জাবাল (রা)এর মধ্যস্থতায় সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আল আনসারী (রা) থেকে। (লখকের পরবর্তী ৫ নং)
অর্থাৎ আব্দুর রহমান বিন আবী লায়লা নিজেই সনদটিকে বিতর্কীত করেছেন। তাছাড়া তিনি শেষোক্ত দু’জন সাহাবীর (রা) কাছ থেকে হাদীস শোনেন নি। ইমাম যায়লাঈ হানাফী (রহ) বলেছেন :
قَالَ الْبَيْهَقِيُّ فِي كِتَابِ الْمَعْرِفَةِ: حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَدْ اُخْتُلِفَ عَلَيْهِ فِيهِ، فَرُوِيَ عَنْهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زيد وروى عنه عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، وَرُوِيَ عَنْهُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ، قَالَ ابْنُ خُزَيْمَةَ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى لَمْ يَسْمَعْ مِنْ مُعَاذٍ، وَلَا مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إسْحَاقَ: لَمْ يَسْمَعْ مِنْهُمَا وَلَا مِنْ بِلَالٍ، فَإِنَّ مُعَاذًا تُوُفِّيَ فِي طَاعُونِ عَمَوَاسَ سَنَةَ ثَمَانَ عَشْرَةَ، وَبِلَالٌ تُوُفِّيَ بِدِمَشْقَ سَنَة عِشْرِينَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى وُلِدَ لِسِتٍّ بَقَيْنَ مِنْ خِلَافَةِ عُمَرَ، وَكَذَلِكَ قَالَهُ الْوَاقِدِيُّ. وَمُصْعَبٌ الزُّبَيْرِيُّ، فَثَبَتَ انْقِطَاعُ حَدِيثِهِ، انْتَهَى كَلَامُهُ
“ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ‘মা‘রেফাতে’ বলেছেন : আব্দুর রহমান বিন আবী লায়লা হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে বিতর্কীত হয়েছেন। তাঁর থেকে আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রা), মু‘আয বিন জাবাল (রা) ও মুহাম্মাদ (স)এর সাহাবীদের হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম ইবনে খুযায়মাহ (রহ) বলেন : আব্দুর রহমন বিন আবী লায়লা মু‘আয (রা) ও আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রা) থেকে শোনেন নি। মুহাম্মাদ বিন ইসহাক্ব (রহ) বলেন : তিনি তাঁদের দু’জন থেকে শোনেন নি, এমনকি বিলাল (রা) থেকেও শোনেন নি। কেননা মু‘আয (রা) ১৮ হিজরিতে মহামারীতে মারা যান। বিলাল (রা) দামেস্কে ২০ হিজরীতে মারা যান। পক্ষান্তরে আব্দুর রহমান বিন আবী লায়লা (রহ) উমার (রা)-এর খেলাফত শেষ হওয়ার ছয় বছর পূর্বে জন্ম গ্রহণ করেন – যেভাবে ওয়াক্বিদী ও মুস‘আব যুবায়রী বলেছেন। সুতরাং প্রমাণিত হল, হাদীসটির সনদে বিচ্ছিন্নতা আছে।” [নাসবুর রায়াহ ১/২৬৭ পৃ:]
এক্ষণে অন্যান্য সাহাবীদের থেকে আব্দুর রহমান বিন আবী লায়লা’র হাদীসটি
ক) মুদাল্লিস ‘আমাশের মু‘আন‘আন বর্ণনার কারণে যঈফ।
খ) এছাড়া আবূ দাউদ বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রা)এর আযানের ইতিহাস সম্পর্কিত অপর একটি সহীহ হাদীসের বিরোধী। সেখানে সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রা) থেকে ইক্বামত বেজোড় সংখ্যায় বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি নিম্নরূপ :
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الطُّوسِىُّ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِى مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِىُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ قَالَ حَدَّثَنِى أَبِى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ قَالَ لَمَّا أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- بِالنَّاقُوسِ يُعْمَلُ لِيُضْرَبَ بِهِ لِلنَّاسِ لِجَمْعِ الصَّلاَةِ طَافَ بِى وَأَنَا نَائِمٌ رَجُلٌ يَحْمِلُ نَاقُوسًا فِى يَدِهِ فَقُلْتُ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَتَبِيعُ النَّاقُوسَ قَالَ وَمَا تَصْنَعُ بِهِ فَقُلْتُ نَدْعُو بِهِ إِلَى الصَّلاَةِ. قَالَ أَفَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ فَقُلْتُ لَهُ بَلَى. قَالَ فَقَالَ تَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ قَالَ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ عَنِّى غَيْرَ بَعِيدٍ ثُمَّ قَالَ وَتَقُولُ إِذَا أَقَمْتَ الصَّلاَةَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا رَأَيْتُ فَقَالَ « إِنَّهَا لَرُؤْيَا حَقٌّ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقُمْ مَعَ بِلاَلٍ فَأَلْقِ عَلَيْهِ مَا رَأَيْتَ فَلْيُؤَذِّنْ بِهِ فَإِنَّهُ أَنْدَى صَوْتًا مِنْكَ ». فَقُمْتُ مَعَ بِلاَلٍ فَجَعَلْتُ أُلْقِيهِ عَلَيْهِ وَيُؤَذِّنُ بِهِ – قَالَ – فَسَمِعَ ذَلِكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ فِى بَيْتِهِ فَخَرَجَ يَجُرُّ رِدَاءَهُ وَيَقُولُ وَالَّذِى بَعَثَكَ بِالْحَقِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ مِثْلَ مَا رَأَى. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « فَلِلَّهِ الْحَمْدُ ». قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَكَذَا رِوَايَةُ الزُّهْرِىِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ وَقَالَ فِيهِ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِىِّ « اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ». وَقَالَ مَعْمَرٌ وَيُونُسُ عَنِ الزُّهْرِىِّ فِيهِ « اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ». لَمْ يُثَنِّيَا.

মুহাম্মাদ ইবনু মানসূর ……আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়েদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (স) শিংগা ধ্বনি করে লোকদের নামাযের জন্য একত্র করার নির্দেশ প্রদান করেন তখন একদা আমি স্বপ্নে দেখি যে, এক ব্যক্তি শিংগা হাতে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে বলি, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি শিংগা বিক্রয় বরবে? সে বলে, তুমি শিংগা দিয়ে কি করবে? আমি বলি, আমি তার সাহায্যে সালাতের জামাআতে লোকদের ডাকব। সে বলল, আমি কি এর উত্তম কোন সন্ধান তোমাকে দেব না? আমি বলি, হাঁ। রাবী বলেন, তখন সে বলল, তুমি এইরূপ শব্দ উচ্চারণ করবে : “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।” রাবী রলেন! অতঃপর ঐ স্হান হতে ঐ ব্যক্তি একটু দুরে সরে গিয়ে দাঁড়ায় এবং বলে- তুমি যখন সালাত পড়তে দাঁড়াবে তখন বলবে : “আল্লাহু আকরার, আলাহু আকবার; আশ্হাদুআল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্; কাদ কামাতিস্ সালাহ্; কাদ কামাতিস্-সালাহ্, আলাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”। অতঃপর ভোর বেলা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে তাঁর নিকট আমার স্বপ্নের বর্ণনা করি। নাবী ﷺ বলেন এটা অবশ্যই সত্য স্বপ্ন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তুমি বিলালকে ডেকে তোমার সাথে নাও এবং তুমি যেরূপ স্বপ্ন দেখেছ- তদ্রুপ তাকে শিক্ষা দাও যাতে সে (বিলাল) ঐরূপে-আযান দিতে পারে। কেননা তাঁর কন্ঠস্বর তোমার স্বরের চাইতে অধিক উচ্চ। অতঃপর আমি বিলাল (রাঃ) -কে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়াই এবং তাকে আযানের শব্দগুলি শিক্ষা দিতে থাকি এবং তিনি উচ্চারণ পূর্বক আযান দিতে থাকেন। বিলালের এই আযান ধ্বনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) নিজ আবাসে বসে শুনতে পান। তা শুনে উমার (রাঃ) এত দ্রুত পদে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে আগমন করেন যে, তাঁর গায়ের চাঁদর মাটিতে হেচঁড়িয়ে যাচ্ছিলো। তিনি নাবী ﷺ-এর দরবারে উপস্হিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য নাবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন, আমিও ঐরূপ স্বপ্ন দেখেছি যেরূপ অন্যরা দেখেছে রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য- (ইবনু মাজাহ, তিরমিযী, মুসলিম)। ইমাম আবূ দাউদ (রহ) বলেন, সাইদ ইব্নুল মূসাইয়্যাব ও আবদুল্লাহ ইবনু যায়েদের সূত্রে ইমাম যুহুরী (রহ) হতেও এইরূপ হাদীছ বর্ণিত আছ। যুহরী থেকে ইবনু ইসহাকের সূত্রে “আল্লাহু আকবার, চারবার উল্লেখ আছ। যুহরী থেকে মামার ও ইউনুসের সূত্রে “আল্লাহু আকবার” দুই বার উল্লেখ আছে, তাঁরা চারবার উল্লেখ করেননি।
[আবূ দাউদ –কিতাবুস সালাত ; মুহাক্কিক্ব শু‘আয়েব আরনাউত বলেন : হাদীসটি হাসান (তাহক্বীক্বকৃত আবূ দাউদ হা/৪৯৯)। ইমাম মুনযিরী (রহ)ও অনুরূপ বলেছেন (‘আওনুল মা‘বুদ – আলোচ্য হাদীসের ব্যাখ্যা দ্র:)
গ) আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদের (রা) শেষোক্ত হাদীসটির সমর্থনে সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য সুনানগ্রন্থে একাধিক সাহাবী থেকে বেজোড় ইক্কামতের হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যা থেকে বুঝা যায়, ইবনে আবী লায়লার আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা) এর জোড় ইক্বামতের হাদীসটি অধিকাংশ সহীহ বর্ণনার বিরোধী বিধায় শায হাদীস হওয়ায় বর্জনীয়। অর্থাৎ ইবনে আবী লায়লা (রহ) থেকে সনদ ও মতন উভয় দিক থেকেই হাদীসটির যঈফ ও অগ্রহণযোগ্য হওয়াটা সুস্পষ্ট।
ঘ) তাছাড়া লেখক ইবনে হাযম (রহ) থেকে হাদীসটি সম্পর্কে আংশিক মন্তব্য উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবী লায়লা (রহ)এর উক্ত হাদীসটি সম্পর্কে ইবনে হাযম (রহ)এর বক্তব্য নিম্নরূপ :
وَهَذَا إسْنَادٌ فِي غَايَةِ الصِّحَّةِ مِنْ إسْنَادِ الْكُوفِيِّينَ فَصَحَّ أَنَّ تَثْنِيَةَ الإِقَامَةِ قَدْ نُسِخَتْ؛ وَأَنَّهُ هُوَ كَانَ أَوَّلَ الأَمْرِ؛ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى أَخَذَ عَنْ مِائَةٍ وَعِشْرِينَ مِنْ الصَّحَابَةِ؛ وَأَدْرَكَ بِلالا وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا؛ فَلاحَ بُطْلانُ قَوْلِهِمْ بِيَقِينٍ -، وَلِلَّهِ تَعَالَى الْحَمْدُ
“এই সনদটি কুফীদের সনদের থেকে বেশী সহীহ। এ পর্যায়ে সহীহর দাবী হল, দুই বার করে ইক্বামত বলাটা মানসুখ হয়েছে। আর সেটা প্রথম দিককার হুকুম ছিল। আর আবী লায়লা একশত বিশ জন সাহাবী থেকে বর্ণনা এবং বিলাল ও উমার (রা) দু’জনের সাথে সাক্ষাৎ – এগুলো তাঁর উক্তি হিসাবে নিশ্চিত বাতিল। এই জন্য আল্লাহ তা‘আলার হামদ করছি।” (মুহাল্লা ২/২৫৪)
বুঝা গেল, ইমাম ইবনে হাযমের কাছে দুই বার করে ইক্বামত বলার অন্যান্য কুফাবাসী বর্ণনার থেকে আবী লায়লা আলোচ্য বর্ণনাটি তুলনামূলক বেশী সহীহ। কিন্তু এক্ষেত্রে ইবনে হাযম হাদীসটি মানসুখ হিসাবে গণ্য করেছেন।
এছাড়া আমরা উপরে প্রমাণ করেছি আব্দুর রহমান ইবনে আবী লায়লার সনদ ও মতন উভয়ক্ষেত্রে ত্রুটি থেকেই উক্ত বর্ণনা এসেছে। তাছাড়া আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ ও বিলাল (রা)এর সাথে সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো আযানের শুরুর ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। এ কারণে নাসিখ মানসুখের ভিত্তিতে সমন্বয়ের চেয়ে সনদ ও মতনগত বিশ্লেষণই এখানে বেশী সুস্পষ্ট।
ঙ) ইমাম ইবনে খুযায়মাহ (ও নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ.) সাহাবী আবূ মাহযুরাহ (রা)এর তারজীযুক্ত আযান ও ইক্বামতের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ বিন যায়দ (রা)এর হাদীসটিকে গ্রহণ করার কথা বলেছেন। অথচ ১) সহীহ সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন যায়দ (রা) থেকে আলোচ্য ঘটনা সম্বলিত হাদীসটিতে বেজোড় সংখ্যার একামত বর্ণিত হয়েছে। ২) আবূ মাহযুরাহ (রা)এর আযানটি তারজীযুক্ত পক্ষান্তরে আব্দুল্লাহ বিন যায়দ (রা)এর হাদীসটি তারজী বিহীন। সুতরাং সাক্ষ্য হিসাবে আলোচ্য হাদীসটিকে গ্রহণ করা যায় না।
চ) সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মোকাবেলায় তাহাবী বা ইবনে আবী শায়বাহ’র বিরোধী বর্ণনা সম্পর্কে শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রহ)এর মন্তব্য কিছু পূর্বে উল্লেখ করেছি। যা হাদীসটির অগ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে।

লেখক :
২. আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ রা. থেকে বর্ণিত-
قال كان أذان رسول الله صلى الله عليه و سلم شفعا شفعا في الأذان والإقامة. رواه الترمذى-۱۹٤.
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আযান ও ইকামাত ছিল জোড়া জোড়া শব্দে। তিরমিযী, হা[.১৯৪
বিশ্লেষণ : এই হাদীসটির সনদেও ইবনে আবী লায়লা আছেন। এখানে দেখা যাচ্ছে তিনি আব্দুল্লাহ বিন যায়দ (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি উল্লেখ করার পর ইমাম তিরমিযী (রহ) লিখেছেন :
عبد الرحمن بن أبي ليلى لم يسمع من عبد الله بن زيد
“‘আব্দুর রহমান বিন আবী লায়লা (রহ) সাহাবী ‘আব্দুল্লাহ বিন যায়দ (রা) থেকে হাদীস শোনেন নি।” (তিরমিযী হা/১৯৪)
সম্মানিত লেখক এই কথাটি গোপন করে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মোকাবেলায় কোন স্বার্থে উক্ত হাদীসটি পেশ করলেন?!
আসলে তিনি চাচ্ছেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের মত মুসলিম জনগণও যেন কিতাবের গোলক ধাঁধায় পড়ে দ্বীনের মতবিরোধকে স্থায়ী ভাবে মেনে নেয়।

লেখক (পৃ:১৪) :
৩. আব্দুর রাহমান ইবনে আবী লায়লা র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدٍ الأَنْصَارِيُّ مُؤَذِّنُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَشْفَعُ الأَذَانَ وَالإِقَامَةَ. رواه ابن ابى شيبة فى المصنف رقم ۲۱۵۱
অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়ায্যিন আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আল আনসারী রা. আযান ও ইকামাত জোড়া জোড়া শব্দে দিতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবীশায়বা, হাদীস নং (২১৫১)
বিশ্লেষণ : এই সনদটির অবস্থাও পূর্বেরটির অনুরূপ। কেননা এখানেও আব্দুর রহমান বিন আবী লায়লা সাহাবী ‘আব্দুল্লাহ বিন যায়দ থেকে বর্ণনা করেছেন। অথচ তিনি তাঁর কাছ থেকে কিছু শুনেন নি, যেভাবে মুহাদ্দিসগণের থেকে পূর্বে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ এই সনদটিও পূর্বেরটির মত যঈফ এবং সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীসের বিরোধী।

লেখক (পৃ:১৪) :
৪. ইবনে আবী লায়লা র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
حَدَّثَنَا أَصْحَابُنَا ؛ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ جَاءَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، إِنِّي لَمَّا رَجَعْتُ الْبَارِحَةَ وَرَأَيْتُ مِنَ اهْتِمَامِكَ ، رَأَيْتُ كَأَنَّ رَجُلاً قَائِمًا عَلَى الْمَسْجِدِ عَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَخْضَرَانِ فَأَذَّنَ ، ثُمَّ قَعَدَ قَعْدَةً ، ثُمَّ قَامَ فَقَالَ مِثْلَهَا ، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ : قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ ، رواه ابن ابى شيبة فى المصنف رقم-۲۱۳۷ وابو داود رقم ۵۰٦ كلاهما من طريق شعبة عن عمرو بن مرة به.
অর্থ: সাহাবীগণ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আনসার গোত্রের জনৈক ব্যক্তি এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! গতকাল যখন আমি ফিরে গেলাম এবং আপনার পেরেশানী দেখলাম, তখন আমি দেখলাম একটি লোক যেন মসজিদে দাঁড়িয়ে আছে। তার পরিধানে ছিল সবুজ রং এর দুটি কাপড়। তিনি আযান দিলেন। পরে একটু বসলেন। অতঃপর আবার দাঁড়ালেন এবং আগের মতোই বললেন। শুধু এবার قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ ، বাড়িয়ে বললেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২১৩৭; আবূ দাউদ, হাদীস নং ৫০৬।
বিশ্লেষণ : এর সনদটি হল :
حدثنا أبو بكر قال نا غندر عن شعبة عن عمرو بن مرة عن ابن أبي ليلى قال حدثنا أصحابنا …..
মুহাক্কেক্ব আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির (রহ) বলেছেন :
ما رواه الثورى وشعبة عن عمرو بن مرة و حسين بن عبد الرحمن عن ابن أبي ليلى مرسلا
“যা সওরী ও শু‘বাহ বর্ণনা করেছেন ‘আমর বিন মুররাহ ও হুসাইন বিন আব্দুর রহমান থেকে, তারা বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আবী লায়লা থেকে – হাদীসটি মুরসাল।” (তাহক্বীক্ব তিরমিযী ১/৩২৭)
তাছাড়া সনদটিতে তাদলীসের ত্রুটি রয়েছে। হানাফী ছাড়া সমস্ত মুহাদ্দিসগণের কাছে মুরসাল ও তাদলীসের ত্রুটিযুক্ত হাদীসকে যঈফ গণ্য করা হয়। তাছাড়া হাদীসটি সংক্ষিপ্ত ও সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত শব্দের বিরোধী বিধায় শায হওয়ায় প্রত্যাখ্যাত।
সহীহ মুত্তাসিল হাদীস থাকলে মুরসাল ও তাদলীসের দোষযুক্ত সন্দেহপূর্ণ হাদীস মানার কোন গ্রহণযোগ্য উসূল হতে পারে না। তাছাড়া আব্দুর রহমান বিন আবী লায়লা থেকে সনদ ও মতনগত ত্রুটি হওয়ার প্রমাণ ১নং বিশ্লেষণে গত হয়েছে।

লেখক (পৃ:১৪১৫) :
৫.হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. বলেন-
قَالَ فَجَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَقَالَ فِيهِ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ مَرَّتَيْنِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ مَرَّتَيْنِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ثُمَّ أَمْهَلَ هُنَيَّةً ثُمَّ قَامَ فَقَالَ مِثْلَهَا إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ زَادَ بَعْدَ مَا قَالَ >> حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ <<قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ. قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم >>- لَقِّنْهَا بِلاَلاً . << فَأَذَّنَ بِهَا بِلاَلٌ.اخرجه ابوداود رقم- ۵۰۷
অর্থ: আনসার গোত্রের লোক আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ রা. আসলেন। তিনি এও বললেন, ( ঐ ব্যক্তি যাকে তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন) কিবলামূখী হলেন, এবং বললেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। হায়্যা আলাস সালাহ, দু‘বার, হায়্যা আলাল ফালাহ, দু‘বার। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তবে ‘হায়্যা আলাল ফালাহ’ বলার পর ‘কাদ্ কামাতিস্ সালাহ, কাদ্ কামাতিস্ সালাহ’ বৃদ্ধি করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বিলালকে এগুলি শিখিয়ে দাও। এর পর থেকে বিলাল রা. এগুলি দিয়েই আযান ইকামাত দিতেন। আবু দাউদ,হাদীস নং ৫০৭
বিশ্লেষণ : এই হাদীসটি ইবনে আবী লায়লা সাহাবী মু‘আয বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। অথচ তিনি মু‘আয বিন জাবাল (রা) থেকে হাদীস শোনেন নি। (জামেউস তাহসীল, শামেলা সংস্করণ; আরো দ্র: বিশ্লেষণ-১)
তাছাড়া হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত বিলাল (রা)-কে শেখানোর নির্দেশ সম্বলিত হাদীসটির বিরোধী। ফলে হাদীসটি শায হওয়ার কারণেও যঈফ তথা অগ্রহণযোগ্য।


লেখক (পৃ:১৫) :
أن النبي صلى الله عليه و سلم علمه الأذان تسع عشرة كلمة والإقامة سبع عشرة كلمة قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح. اخرجه الترمذى رقم- ۱۹۲والطيالسى رقم ۱۳۵٤ والدارمى ۱۱۹٦، ۱۱۹۷ والنسائى ٦۳۰ وقال الترمذى حسن صحيح.

অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আযানের কালিমা ১৯ টি ও ইকামাতের কালিমা ১৭ টি শিখিয়েছেন। তিরমিযী, হাদীস নং ১৯২; আবূ দাউদ তায়ালিসী, হাদীস নং ১৩৫৪; দারিমী, হাদীস নং ১১৯৬, ১৯৯৭; নাসাঈ, হাদীস নং ৬৩০। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
বিশ্লেষণ :
ক)এই হাদীসটি হানাফীদের পক্ষ সমর্থন করে না। বরং আযানের বাক্য ইকামাতের বাক্যের থেকে কম প্রমাণ করে। অথচ হানাফীদের আযানের বাক্য হলো ১৭টি এবং ইক্বামতের বাক্য দু’টি বেশী তথা ১৯টি। অর্থাৎ হাদীসটি হানাফীদের খণ্ডন করে, সমর্থন করে না।
খ) আবূ মাহযুরার আযান ও ইক্বামতের বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নরূপ :
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِىٍّ حَدَّثَنَا عَفَّانُ وَسَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وَحَجَّاجٌ – وَالْمَعْنَى وَاحِدٌ – قَالُوا حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا عَامِرٌ الأَحْوَلُ حَدَّثَنِى مَكْحُولٌ أَنَّ ابْنَ مُحَيْرِيزٍ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا مَحْذُورَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَلَّمَهُ الأَذَانَ تِسْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً وَالإِقَامَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً الأَذَانُ « اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَالإِقَامَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ». كَذَا فِى كِتَابِهِ فِى حَدِيثِ أَبِى مَحْذُورَةَ.
“আল্-হাসান ইবনু আলী ইবনু মুহায়রিয (রহঃ) হযরত আবূ মাহযূরা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে উনিশ শব্দে আযান এবং সতের শব্দে ইকামত শিক্ষা দিয়েছেন। আযানের শব্দগুলি নিম্নরূপঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।” আর ইকামতের শব্দগুলি হলঃ “আল্লাহু আকবার, আলাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আলাহু আকবার, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্; কাদ কামাতিস্ সালাহ্; কাদ কামাতিস্-সালাহ্, আলাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” হযরত আবূ মাহযূরা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। হাদীছটি তাঁর নিকট রক্ষিত কিতাবে এভাবে উল্লেখ আছে। [আবূ দাউদ – কিতাবুস সালাত হা/৫০২]
ক) উক্ত হাদীসে দুই আশহাদু দুইবার করে বলার পর পুণরায় দুই বার বলা হয়েছে। একে বলা হয়, তারজীহ আযান। ফলে আযানের মোট বাক্য হয় ১৯টি। কিন্তু হানাফীদের কাছে এই তারজী আযান গ্রহণযোগ্য নয়। আবার তারাই তারজীযুক্ত আযানের সাথে সম্পৃক্ত ইক্বামতটি মেনে থাকেন। যা তাদের স্ববিরোধী নীতি। অর্থাৎ মনমত হলে তারা হাদীস গ্রহণ করেন, অন্যথায় বর্জন করেন।
খ) যখন আযান তারজী হবে তখন ইক্বামত জোড়া হবে। অর্থাৎ যে মুয়াযযিন তারজী তথা ১৯ বাক্যের আযান দিবেন তিনি জোড়া তথা ১৭ বাক্যের ইক্বামত দিবেন। বুঝা গেল, সর্বাবস্থায় আযানের বাক্যের থেকে ইক্বামাতের বাক্য সংখ্যা কম হবে।
গ) যেহেতু হানাফীগণ তারজী আযান অস্বীকার করে থাকেন এবং বলেন : এটা সাহাবী আবূ মাহযুরাহ (রা)এর শেখানোর জন্য ছিল। সেহেতু উক্ত ইক্বামতের পদ্ধতির ক্ষেত্রেও সেই ব্যাখ্যাই তাদের পক্ষ থেকে আসা উচিত।
ঘ) যেহেতু আযানের ক্ষেত্রে হানাফীরা সহীহ মুসলিমের সাহাবী বিলাল (রা) থেকে তারজীহীন আযানের অনুসরণ করেন, সেহেতু ইক্বামাতের ক্ষেত্রে ঐ হাদীসের বেজোড় বাক্যকে গ্রহণ করবেন। অন্যথায় তাদের আমল ও দলিল তাদের বিপক্ষে যায়।

লেখক (পৃ:১৬) :
৭. আবূ মাহযূরা রা. বর্ণনা করেন –
عَلَّمَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الأَذَانَ تِسْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً وَالإِقَامَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً ، الأَذَانُ : . . . . وَالإِقَامَةُ : اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ ، أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ ، حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ ، حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ ، حَيَّ عَلَى الْفَلاَحِ ، حَيَّ عَلَى الْفَلاَحِ ، قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ ، قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ ، اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَكْبَرُ ، لاَ إلَهَ إِلاَّ اللَّهُ.اخرجه ابن ابى شيبة رقم- ۲۱۳۲ وابو داود رقم ۵۰۲ كلاهما من طريق همام عن عامر الاحول. وفى طريق لابى داود وعلمنى الاقامة مرتين.رقم ۵۰۱
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আযানের কালিমা শিখিয়েছেন ১৯ টি, আর ইকামাতের কালিমা শিখিয়েছেন ১৭ টি। আযানের কালিমাগুলি বলার পর তিনি বলেন, আর ইকামাতের কালিমাগুলি হলো- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। হায়্যা আলাস্ সালাহ, হায়্যা আলাস্ সালাহ, হায়্যা আলাল্ ফালাহ, হয়্যা আলাল্ ফালাহ, কাদ্ কামাতিস্ সালাহ, কাদ্ কামাতিস্ সালাহ। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লালাøহ। মুসান্নাফে ইবনে আবীশায়বা, হাদীস নং ২১৩২; আবূদাউদ, হাদীস নং ৫০২। আবূ দাউদ শরীফের আরেকটি বর্ণনায় আছে- আমাকে ইকামাতের কালিমা দু‘বার করে বলা শিখিয়েছেন। (হাদীস নং ৫০১)
বিশ্লেষণ : এর জবাব ‘বিশ্লেষণ – ৬’ এর অনুরূপ।

লেখক (পৃ:১৬) :
৮. আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ র. থেকে বর্ণিত আছে যে,
أن بلالا كان يثني الأذان ويثني الإقامة.اخرجه عبد الرزاق ۱\٤٦۲ والطحاوى ۱\۱۰۲ والدارقطنى ۱\۲٤۲ كلهم عن معمر عن حماد عن إبراهيم عنه.واخرجه عبد الرزاق ايضارقم- ۱۷۹۱ أخبرنا عبد الرزاق عن الثوري عن بي معشر عن إبراهيم عن الأسود عن بلال قال كان أذانه وإقامته مرتين مرتين. قال الماردينى فى الجوهر النقى:هذا سند جيد.
অর্থ: বিলাল রা. আযান (এর কালিমাগুলি) দু‘বার করে বলতেন, ইকামাতও দু‘বার করে বলতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক, ১ খৃ, ৪৬২পৃ; তাহাবী, ১ খৃ, ১০২ পৃ;। অন্য একটি সনদে আব্দুর রায্যাক রা. আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বিলাল রা. আযান ও ইকামাত দুবার দুবার করে বলতেন।(দ্র. ১/ ৪৬৩) আল্লামা মারদীনী র. বলেছেন-এর সনদ উত্তম।
বিশ্লেষণ : ক) আসওয়াদ বিন ইয়াযীদ তাবেঈ ছিলেন। তিনি নবী (স)এর যামানা পান নি। আর বিলাল (রা) নবী (স)এর যামানার পরে আযান দেন নি। এ কারণে ইমাম ইবনে হাযম (রহ) হাদীসটি সম্পর্কে লিখেছেন :
لا يَخْتَلِفُ فِيهِ اثْنَانِ مِنْ أَهْلِ النَّقْلِ: أَنَّ بِلالا – رضي الله عنه – لَمْ يُؤَذِّنْ قَطُّ لأَحَدٍ بَعْدَ مَوْتِ رَسُولِ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – إلا مَرَّةً وَاحِدَةً بِالشَّامِ، وَلَمْ يُتِمَّ أَذَانَهُ فِيهَا
“দু’জন (হাদীস) সঙ্কলকেরও এ ব্যাপারে মতপার্থক্য নেই যে, নবী (স)এর মৃত্যুর পর বিলাল (রা) কারো জন্য আযান দেন নি। অবশ্য শামে (সিরিয়াতে)। সেটাও পরিপূর্ণ ছিল না।” (মুহাল্লা ২/১৮৮)
অর্থাৎ আসওয়াদের পক্ষে বিলালের আযান শোনার সুযোগ ঘটেনি। অথচ বর্ণনাটি থেকে মনে হয় তিনি আযান শুনেছেন। তাছাড়া সহীহ মুসলিমে সহীহ সনদে এর বিপরীত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বিতর্কীত এই হাদীসটি সহীহ হাদীসের মোকাবেলায় গ্রহণযোগ্য নয়।
খ) এর সনদে ইবরাহীম (নাখয়ী) মুদাল্লিস। যেভাবে ইমাম হাকিম সুস্পষ্ট করেছেন (তাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন পৃ: ২৮)। তাঁর থেকে বর্ণিত সনদটিতে আনআনাহ আছে। সুতরাং হাদীসটি যঈফ।
গ) হাম্মাদ (বিন আবী সুলায়মান ) মুতাকাল্লাম ফীহ (বিতর্কীত) রাবী ও ইখতিলাতকারী (বর্ণনাতে হেরফেরকারী)। ইমাম হায়সামী (রহ) বলেছেন : এটা সুস্পষ্ট যে, হাম্মাদ থেকে ইমাম সুফিয়ান সওরী, ইমাম শু‘বাহ ও দাস্তাওয়ায়ির বর্ণনা স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়ার পূর্বে শোনা। অন্যান্যদের শোনাটা ইখতিলাতের পরবর্তীতে ঘটেছে। (মুজমাউয যাওয়ায়েদ ১/১২৪ পৃ:) অথচ এই বর্ণনাটি উক্ত তিনজনের কেউ নেই।
সুস্পষ্ট হল, সনদটি মুরসাল, তাদলীসের ত্রুটিযুক্ত ও হাম্মাদের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যার অপর একটি প্রমাণ হল, বর্ণনাটি সহীহ মুসলিমের বিরোধী।

লেখক (পৃ:১৭) :
৯. সুওয়ায়দ ইবনে গাফালা রা. থেকে বর্ণিত-
سمعت بلالا يؤذن مثنى ويقيم مثنى اخرجه الطحاوى۱\۱۰۱
অর্থঃ তিনি বলেছেন, আমি বিলাল রা. কে আযান ও ইকামাত দুবার দুবার করে বলতে শুনেছি। তাহাবী, ১/১০১
বিশ্লেষণ : ক) সুওয়ায়দ (রহ)ও তাবেঈ এবং তাঁর পক্ষেও বিলাল (রা) আযান শোনাটা পূর্বের বর্ণনাটির ন্যায় সম্ভব নয়।
খ) এর সনদে শরীক (বিন আব্দুল্লাহ কাযী) আছে। তিনি মুদাল্লিস এবং বর্ণনাটিতে ‘আনআনাহ আছে। সুতরাং হাদীসটি যঈফ।
তাছাড়া শরীকও হাদীসের ক্ষেত্রে ইখতিলাতকারী। …
গ) সর্বোপরি হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত বিলাল (রা) বর্ণনাটির বিরোধী বিধায় প্রত্যাখ্যাত।

লেখক ১০ (পৃ:১৭) :
১০. হযরত আবূ জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে,
ان بلالا كان يؤذن للنبى صلى الله عليه وسلم مثنى مثنى ويقيم مثنى مثنى. اخرجه الطبرانى فى الكبير ৯/১৯২ والدارقطنى ১/২৪২ وفى اسناده زياد بن عبد الله البكائى مختلف فيه واحتج به مسلم.
অর্থ: বিলাল রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য আযানও দিতেন জোড় শব্দে, ইকামাতও দিতেন জোড় শব্দে। তাবারানী, ৯/১৯২ দারাকুতনী, ১/২৪২
বিশ্লেষণ ১০ : ক) বর্ণনাটির সনদে যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাকাঈ আছেন। তিনি মুতাকাল্লাফীহ (বিতর্কীত) রাবী। তিনি মাগাযী বা যুদ্ধ বর্ণনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (তাক্বরী্ব)। ইবনে ইসহাকের মধ্যস্ততা ছাড়া তার হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। (তাক্বরীবুত তাক্বরীব ও তাহযীবুত তাহযীব)
খ) ইমাম আলী ইবনুল মাদানী (রহ) তাকে যঈফ বলেছেন। আবূ হাতিম (রহ) বলেছেন : দলিল গ্রহণযোগ্য নয়, ইমাম নাসাঈ ও ইবনে সা‘দ তাকে যঈফদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন (মীযান ২/৯১, তাহযীব ৩.৩৭৬)। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মুঈনও তাকে যঈফ বলেছেন (আয-যু‘আফাউল কাবীর ২/৮০)
গ) সর্বোপরি হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত বিলাল (রা) বর্ণনাটির বিরোধী বিধায় প্রত্যাখ্যাত।

লেখক ১১ (পৃ:১৭) :
১১. হাজান্না ইবনে কায়স থেকে বর্ণিত আছে যে,

أَنَّ عَلِيًّا كَانَ يَقُولُ : الأَذَانُ مَثْنَى وَالإِقَامَةُ ، وَأَتَى عَلَى مُؤَذِّنٍ يُقِيمُ مَرَّةً مَرَّةً ، فَقَالَ : أَلاَ جَعَلْتَهَا مَثْنَى ؟ لاَ أُمَّ لِلْآخَرِ. اخرجه ابن ابى شيبة رقم-۲۱٤۹
অর্থ: আলী রা. বলতেন, আযান ও ইকামাতের বাক্যগুলো দুবার করে বলতে হবে। তিনি একজন মুয়ায্যিনকে একবার একবার করে ইকামাত বলতে শুনলেন। তাকে তিনি বললেন, দুবার করে বললেনা কেন? হতভাগ্যের মা না থাক্। মুসান্নাফে ইবনে আবীশায়বা, হাদীস নং ২১৪৯।
বিশ্লেষণ ১১ : ক) হাজান্না বিন ক্বায়েস একজন অপরিচিত ব্যক্তি। যেভাবে ইমাম আবূ হাতিম বলেছেন। (তাহক্বীক্বকৃত ইবনে আবী শায়বাহ ২/১১ পৃ: টীকা নং-৫) তাছাড়া কেউ কেউ তাকে মুতাকাল্লাম ফীহ (বিতর্কিত) রাবী বলেছেন।
খ) তাছাড়া হাশীম বিন আব্দুর রহমান মুদাল্লিস এবং হাদীসটিতে আনআনাহ আছে। সুতরাং তা অগ্রহণযোগ্য। (তাহযীব ১১/৬৩, তাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন পৃ: ৪৭)
গ) সর্বোপরি হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত বিলাল (রা) বর্ণনাটির বিরোধী বিধায় প্রত্যাখ্যাত।

লেখক ১২ (পৃ:১৮) :
১২. উবায়দ রা. থেকে বর্ণিত,
قال ان سلمة كان يثنى الاقامة . اخرجه الطحاوى ۱\۱۰۲
অর্থ: সালামা ইবনেুল আক্ওয়া রা. ইকামাতের শব্দগুলো দুবার করে বলতেন। তাহাবী, ১/১০২
বিশ্লেষণ ১২ :এর সনদে আব্দুর রহমান বিন ইসমাঈল আছেন। তার প্রতি আপত্তি আছে (আয়নী, নুখবুল আফকার ৩/৫২)। ইমাম আবূ দাউদ (রহ) তাকে যঈফ ও মাতরুকুল হাদীস বলেছেন। (তাহযীবুত তাহযীব ১/১০৫)

লেখক ১৩ (পৃ:১৮) :
১৩. আবূ ইসহাক রা. থেকে বর্ণিত,
قَالَ : كَانَ أَصْحَابُ عَلِيٍّ ، وَأَصْحَابُ عَبْدِ اللهِ يَشْفَعُونَ الأَذَانَ وَالإِقَامَةَ. اخرجه ابن ابى شيبة رقم-۲۱۵٤
অর্থ: তিনি বলেন-হযরত আলী রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাস্উদ রা. এর শিষ্যগণ আযান ও ইকামাতের বাক্যগুলি দুবার দুবার করে বলতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২১৫৪।
বিশ্লেষণ ১৩ : এর সনদে হাজ্জাজ বিন আরতাত বর্ণনাকারী আছে। তিনি যদিও সত্যবাদী কিন্তু ব্যাপক ভুল করতেন, তিনি মুদাল্লিস। (তাক্বরীব পৃ: ৬৪) তাছাড়া তার শিক্ষক ইসহাক্ব বর্ণনাতে ইখতিলাত (কমবেশী) করতেন। (তাক্বরীব ২৬১)
সর্বোপরি হাদীসটি যঈফ। যারা সনদটিকে সহীহ দাবী করছেন, তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে – হাজ্জাজ তার উস্তাদ থেকে ইখতিলাতের পূর্বে বর্ণনাটি শুনেছেন। তর্কের খাতিরে সনদটিকে সহীহ ধরে নিলেও বর্ণনাটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত নবী (স)এর সাথে সম্পৃক্ত মাারফু‘ হাদীসের বিরোধী বিধায় পরিত্যাজ্য।

লেখক ১৪ (পৃ:১৮) :
১৪. মুজাহিদ র. থেকে বর্ণিত,
قال ذكر له الإقامة مرة مرة فقال هذا شيء قد استخفته الأمراء الإقامة مرتين مرتين.رواه عبد الرزاق فى المصنف رقم-۱۷۹۳
অর্থ: তিনি বলেন- তার নিকট ইকামাতের বাক্যগুলো একবার করে বলার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হলে তিনি বললেন, শাসকরা (বনী উমায়্যার) এটা হাল্কা করেছে। ইকামাতের শব্দগুলো হবে দুবার করে। মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক, ১/৪৬৩; তাহাবী, ১/১০১
বিশ্লেষণ ১৪ : মুজাহিদ (রহ) তাবেঈ ছিলেন। সহীহ মারফু‘ ও মওকুফ হাদীসের মোকাবেলায় তাবেঈর উক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উমাইয়া শাসকদের যে দোষটির কথা উল্লেখ করতে চেয়েছেন তা সহীহ সনদে নবী (স) ও সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত। এ পর্যাযে সুস্পষ্ট হয়, তাঁর যামানাতে শাসকদের মাধ্যমে সহীহ আমলটি প্রতিষ্ঠিত ছিল। যা পূর্ববর্তী সহীহ বর্ণনাগুলোকে সমর্থন করে।
যদি মুজাহিদ (রহ)এর বক্তব্যকে গ্রহণ করি , সেক্ষেত্রে একবার ইক্বামত বলাটা বিদ‘আত গণ্য করতে হয়। কেননা তাহাবীতে বর্ণিত হয়েছে :
فاخبر مجاهد ان ذلك محدث وان الاصل التثنية
“মুজাহিদ খবর দিয়েছেন এটি (একবার ইক্বামত) বিদ‘আত, আর আসলটি হবে দুই বার।” (তাহাবী ১/১৯০)
অথচ ব্যাপক সংখ্যক তাবেঈ থেকে একবার ইক্বামত বলার বর্ণণা রয়েছে। যা সহীহ মারফু‘ ও মওকুফ হাদীসে পরিপূরক। এ পর্যায়ে মুজাহিদের উপস্থাপনা ভুল প্রমাণিত হয়।

লেখক ১৫ (পৃ:১৮) :
১৫. ইবরাহীম নাখায়ী রা. বলেন,
لاَ تَدَعُ أَنْ تُثَنِّيَ الإِقَامَةَ. اخرجه ابن ابى شيبة رقم- ۲۱۵۳ ومحمد فى كتاب الحجة على اهل المدينة ص.۲۲
অর্থ: আযান ও ইকামাতের শব্দগুলো দুবার দুবার বলতে ছাড়বে না। মুসান্নাফে ইবনে আবীশায়বা, হাদীস নং ২১৫৩; ইমাম মুহাম্মাদ, কিতাবুলহুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনা, পৃ. ২২।
বিশ্লেষণ ১৫ : এর সনদে ইবনে আবী লায়লা আছেন। ইবনে হাজার (রহ) বলেন : তিনি সত্যবাদী কিন্তু খুব ভুল করতেন। ইমাম যাহাবী (রহ) বলেছেন : আহমাদ (রহ) বলেছেন : তিনি ত্রুটিপূর্ণ হাফেয। (তাহযীব ৬০৮১)
তাছাড়া এটি তাবেঈর উক্তি। সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম ও চারটি সুনানে বর্ণিত নবী (স) ও সাহাবীদের অধিকাংশ বর্ণনার বিরোধী হওয়াই বর্ণনাটি বাতিল।
লেখক ১৬ (পৃ:১৮) :
প্রাসঙ্গিক আলোচনা : ইকামাতের বাক্যগুলো একবার করে পড়ার ব্যাপারে একটি মাত্র সহীহ হাদীস আছে বুখারী, মুসলিম সহ অনেক হাদীসের কিতাবে। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আনাস (রা)। তিনি বলেছেন :
أُمِرَ بِلَالٌ أَنْ يَشْفَعَ الْأَذَانَ وَأَنْ يُوتِرَ الْإِقَامَةَ
অর্থাৎ বিলালকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল আযানের বাক্যগুলো জোড় পড়তে, আর ইকামাতের বাক্যগুলো বেজোড় পড়তে। হাদীসটির বাহ্যিক অর্থ থেকে বুঝা যায় – ইকামাতের বাক্যগুলো একবার করে পড়তে হবে।
বিশ্লেষণ ১৬ : আমরা আলোচনার শুরুতেই কুতুবে সিত্তাহর থেকে আনাস (রা), ইবনে উমার (রা), আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রা), আবূ রাফে (রা), আম্মার ইবনে সা‘দ (রা) ও আবুল মুসান্না (রা) প্রমুখের হাদীস বর্ণনা করেছি। এ পর্যাযে লেখকের উক্তি ইকামাতের বাক্যগুলো একবার করে পড়ার ব্যাপারে ‘একটি মাত্র সহীহ হাদীস আছে’ সুস্পষ্ট মিথ্যাচার। বরং বেজোড় ইক্বামাতের বর্ণনাকারীদের সংখ্যাই বেশী ও সহীহ।

লেখক ১৭ (পৃ:১৮) : আলিমগণ পূর্বের হাদীসগুলির কারণে এ হাদীসটির দুটি ব্যাখ্যা করেছেন :
এক. যারা এ হাদীসটির বাহ্যিক অর্থ অনুসারে আমল করেন তারা সকলে শুরু ও শেষে আল্লাহু আকবার দুবার করেই বলেন। অথচ এতে জোড় সংখ্যা হয়ে যায়। ইমাম নববী র. মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই সমস্যার সমাধানে বলেছেন, যেহেতু আল্লাহু আকবার দুবার বললেও এক নিঃশ্বাসে বলা হয় তাই এটাকে একবারের অর্থেই ধরা হবে। হানাফী আলেমগণ বলেন, বুঝা গেল অন্যান্য বাক্যগুলোও যদি এক নিঃশ্বাসে পড়া হয় তবে দুবার করে পড়লেও একবারই ধরা হবে, জোড় ধরা হবে না। তাই তাঁরা বলেছেন, সুন্নাত হলো প্রথম চার বার আল্লাহু আকবার এক নিঃশ্বাসে পড়বে। যাতে বিলালা রা. এর এ হাদীস অনুসারেও আমল হয়ে যায়।
বিশ্লেষণ ১৭ : ইমাম নববীর (রহ) উক্তিতে কেবল ইক্বামাতে শেষের আল্লাহু আকবারের ক্ষেত্রে দুবার বলাকে একবার গণ্য করা হয়েছে। তাহলে আযান জোড়া জোড়া অর্থ করার ক্ষেত্রে শেষের আল্লাহু আকবার দু’টিকে বেজোড় ধরতে হয়। অথচ আযান হল জোড়া জোড়া। যেভাবেই ধরা হোক আযান বা ইক্বামাতের শেষের আল্লাহু আকবার জোড় বা বেজোড় গণনার ক্ষেত্রে এখানে ব্যতিক্রম হচ্ছে। আমাদেরকে আযান বা ইক্বামাতে শেষের আল্লাহু আকবারের ক্ষেত্রে ঐ ব্যতিক্রম হিসেব ধরেই আমল করতে হবে। এ পর্যায়ে ‘আল্লাহু আকবার ও ক্বদকামাতিস সালাহ’ ছাড়া ইক্বামাতের অন্যান্য বাক্যগুলো বেজোড়। অর্থাৎ ইক্বামাতের অন্যান্য বাক্যগুলোর বেশী সংখ্যক বেজোড় হওয়াতে ক্বদকামাতিস সালাহ ছাড়া বলা হয়েছে ইক্বামাতের বাক্যগুলো হবে বেজোড় সংখ্যাতে। আর শেষের আল্লাহু আকবার এখানে ব্যতিক্রম।

সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রা) থেকে বর্ণিত বেজোড় সংখ্যার ব্যাখ্যাকৃত ব্যবহারিক ইক্বামাতের পদ্ধতিটিতে সবগুলো বাক্য একবার এবং আল্লাহু আকবার ও ক্বদকামাতিস সালাহ দুই বার এসেছে। হাদীসটির সনদ হাসান। এ পর্যায়ে গাণিতিকভাবে শেষের ‘আল্লাহু আকবারের’ জোড় বা বেজোড় হওয়ার ব্যতিক্রম হিসাবটিসহ হাদীসটির ব্যাখ্যা নিতে হবে।

সমস্ত হাদীসগুলো সামনে রাখলে সারাংশ হল – তারজী আযানের সাথে সংশ্লিষ্ট ইক্বামাত ছাড়া জোড়া ইক্বামাত নেই। তারজীহীন আযানের ইক্বামাত বেজেড় সংখ্যা বিশিষ্ট। আর এটাই হল, এ সম্পর্কিত হাদীসগুলোর দাবীর প্রতি সমন্বিত আমল।

লেখক ১৮ (পৃ:১৮) :
দুই. এ হাদীসে যে একবার করে বলতে বলা হয়েছে, এটি পূর্বে ছিল। পরবর্তীকালে এ আদেশটি রহিত হয়ে গেছে। যার প্রমাণ পূর্ববর্তী হাদীসগুলো। ইমাম তাহাবী র. বলেছেন :
ثم ثبت هو من بعد على التثنية في الإقامة بتواتر الآثار في ذلك فعلم أن ذلك هو ما أمر به
অর্থাৎ পরবর্তীতে বিলাল রা. ইকামাতের বাক্যগুলো দুবার করেই বলতেন; যা বহু সংখ্যক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। বুঝা গেল তিনি এই নিয়ম অনুসরণেও আদিষ্ট হয়েছিলেন।
বিশ্লেষণ ১৮ : অথচ ইমাম ইবনে হাযম (রহ) ঠিক এর বিপরীত কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি (দ্র: বিশ্লেষণ-১ এর ‘ঘ’)। তাছাড়া বিলাল (রা) থেকে দু’বার ইক্বামাতের বাক্য বলার হাদীসগুলো যঈফ। সহীহ ও সংখ্যাধিক্য সাহাবীদের বর্ণনা হল একবার ইক্বামাতের বাক্য বলা। আর এ কারণে ইবনে হাযম (রহ) দুইবার ইক্বামাত বলার বাক্যগুলোকে মানসুখ বলেছেন।

লেখক ১৯ (পৃ:১৯২০) :
খোদ আল্লামা শাওকানীর র. – যিনি নিজেও লা-মাযহাবী ছিলেন – আবূ মাহযূরা রা. এর হাদীসের ভিত্তিতে বিলাল রা. এর একবার বলার আমলকে মানসূখ বা রহিত বলে মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ নায়লুল আওতারে তিনি লিখেছেন –
وهو متأخر عن حديث بلال الذي فيه الأمر بإيتار الإقامة لأنه بعد فتح مكة لأن أبا محذورة من مسلمة الفتح وبلال أمر بإفراد الإقامة أول ما شرع الأذان فيكون ناسخًا . وقد روى أبو الشيخ ( أن بلالًا أذن بمنى ورسول اللَّه صلى اللَّه عليه وآله وسلم ثم مرتين مرتين وأقام مثل ذلك ) إذا عرفت هذا تبين لك أن أحاديث تثنية الإقامة صالحة للاحتجاج بها لما أسلفناه وأحاديث إفراد الإقامة وإن كانت أصح منها لكثرة طرقها وكونها في الصحيحين لكن أحاديث التثنية مشتملة على الزيادة فالمصير إليها لازم لا سيما مع تأخر تاريخ بعضها كما عرفناك
অর্থাৎ একবার বলার আদেশ সম্বলিত বিলাল রা. এর হাদীসটির পরে হলো আবূ মাহহযূরা রা. এর এ হাদীস। কারণ এটি মক্কা বিজয়ের পরের ঘটনা। আবূ মাহযূরা রা. তো মক্কা বিজয় কালে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আবুশ শায়খ র. বর্ণনা করেছেন যে, বিলাল রা. মিনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে আযান ও ইকামাতের বাক্যগুলো দুবার করে বলেছেন।
এ আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই পাঠকের সামনে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ইকামাতের বাক্যগুলো দুবার করে বলার হাদীসগুলো প্রমাণ স্বরূপ পেশ করার উপযুক্ত। আর একবার করে বলা হাদীসগুলো যদিও অধিক সনদে ও বুখারী মুসলিমে বর্ণিত হওয়ার কারণে অধিক সহীহ, কিন্তু দুবার বলার হাদীসগুলোতে বাড়তি বিষয় রয়েছে, আর এগুলো পরবর্তী কালের বিধান সম্বলিত। এসব কারণে এগুলি অনুসারে আমল করা বাঞ্ছনীয়। নাইলুল আওতার ২/২২
বিশ্লেষণ ১৯ : প্রকৃতপক্ষে উক্ত উপস্থাপনাটি ইমাম শওকানীর (রহ) নিজস্ব কথা নয়। বরং আলেমদের মধ্যকার বিতর্কগুলো তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় উক্ত আলোচনাটি এসেছে। কেননা তিনি (রহ) উক্ত উদ্ধৃতির কিছু পরে আবূ মাহযূরার (রা)এর ইক্বামাতের ব্যাপারে অন্যান্য আলেমগণ বিশ্লেষণ করে বলেছেন : তারা আবূ মাহযূরার হাদীসটিকে মানসুখ বলেছেন। কেননা মক্কা বিজয়ের পর মদীনাতে ফিরেও বিলাল (রা) আযান ও ইক্বামত দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে আবূ মাহযুরাহ (রা)এর হাদীসটি তারজীহযুক্ত আযান ও ইক্বামত এবং বিলাল (রা)এর হাদীসটি তারজীহ বিহীন। এখানে উভয়টি ভিন্ন ভিন্নভাবে আমলের সুযোগ আছে। একটির সাথে অপরটির কোন সংঘর্ষ নেই। বরং দু’টি বর্ণনা আযানের দু’টি পদ্ধতির প্রমাণ। সমস্যা হল হানাফীগণ আবূ মাহযুরাহ (রা)এর ইক্বামতের হাদীসটি গ্রহণ করেন, আর আযানের হাদীসটি বর্জন করেন। যা তাদের স্ববিরোধী আমল ও দলিল উপস্থাপনে এক ধরনের ধোঁকাবাজী। উক্ত নীতিমালাটি তখন প্রযোজ্য হত, যখন হাদীসে সংঘর্ষ থাকত। কিন্তু এখানে দুই ধরনের আমল এসেছে একই ক্ষেত্রে তথা আযানের ব্যাপারে। সুতরাং সংঘর্ষ থাকল না। তাছাড়া বিলাল (রা)এর সমর্থনে অন্যান্য সাহাবীর সমর্থিত বর্ণনা রয়েছে। নবী (স)এর যামানার কথাটিও সাহাবীদের (রা) মুখে সুস্পস্ট হয়েছে। তাই এখানে ব্যাপক সংখ্যক সাহাবীর (রা) বর্ণনার মোকাবেলায় আবূ মাহযুরাহ (রা)-এর হাদীসটি কেবল তাঁর নিজস্ব আমলের সাথে সম্পৃক্ত। সাহাবীদের (রা) মধ্যে তাঁর আমলটি প্রতিষ্ঠিত ছিল না। বিলাল (রা)এর মত আযান ও ইক্বামতের হাদীস বর্ণনা করেছেন : সাহাবী আনাস (রা), ইবনে উমার (রা), আম্মার বিন সা‘দ (রা), আবূ রাফে‘ (রা) প্রমুখ (দ্র: ইবনে মাজাহ- কিতাবুস সালাত)।

লেখক ২০ (পৃ:২০) :
“পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই। ইকামাতের বাক্যগুলো একবার করে বলা হবে না দুবার করে, এ নিয়ে ফকীহ ইমামগণের মধ্যেও দ্বিমত ছিল। কিন্তু ঝগড়া ছিল না। বরং ইমাম ইবনু আব্দিল বার র. উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ, ইসহাক, দাউদ যাহেরী ও ইবনে জারীর তাবারী র. প্রমুখ এ দ্বিমতকে বৈধ মতানৈক্য আখ্যা দিয়েছেন, এবং বলেছেন যেভাবেই করুক জায়েয হবে। এমনকি লা-মাযহাবী আলেম তিরমিযী শরীফের ভাষ্যকার মুবারকপুরী সাহেবও লিখেছেন, একবার করে বলা বা দুবার করে বলা উভয়টাই আমার দৃষ্টিতে বৈধ। তাহলে এতে ঝগড়ার কি আছে। কেন বলা হচ্ছে দুবার করে বলার কথা কোন হাদীসে নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করেন।”
বিশ্লেষণ – ২০ : লেখকের এই অংশটুকু নিয়ে আমরা আলোচনার শুরুতেই পর্যালোচনা করেছি। তবে সম্মানিত লেখক এখানে উদারতা দেখালেও পূর্ববর্তী উপস্থাপনাতে তিনি মূলত যঈফ হাদীস দ্বারা সহীহ হাদীসকে মানসুখ ও বাতিল করতে চেয়েছেন। সর্বোপরি তিনি শেষোক্ত মন্তব্য দ্বারা উদারতা প্রদর্শনে আড়ালে ষড়যন্ত্রের নীল-নকশা উপস্থাপন করেছেন। তার পরবর্তী অধ্যায়গুলোর বিশ্লেষণে যা আরো সুস্পষ্ট হবে।

Advertisements

এই সাইডটি ভিজিট করার সময় আপনি যাদি কোন অশ্লীল এডভাটাইজমেন্ট দেখেন তাহলে একটু হোমপেজের পাশে “এডভাটাইজমেন্ট মুক্ত ব্রাউজিং করুন” পাতাটি দেখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s