হানাফি দেওবান্দি হোটেল-৩

43-hanafi-deobandi-hotel-03-800x450

এই পর্বটি পড়ার আগে, অনুগ্রহ করে এর আগের পর্বটি পড়ুন। তা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

কাস্টমার: আপনাদের মতো এমন আজব হোটেলের নাম আমি কখনও দেখেনি এবং শুনেনি।

ওয়েটার: হ্যা বাস্তবিক, আপনি সাড়া পৃথিবীতে এমন হোটেল আর কোথাও খোঁজে পাবেন না। আমরা আমাদের হানাফী ভাইদের জন্য দেওবন্দী ফিকহ অনুসারে হোটেলটা সাজিয়েছি। যাহোক কিছুদিন আগে আমরা আহলে হাদীসদের মর্যাদাহানি ও কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে একটা পোস্টার ছাপিয়েছি। পোস্টারের নাম “সুবাহ কী নিহারী, না দুখ না বিমারী” অর্থাৎ “সকাল বেলার নেহারী, না থাকবে দু:খ, না থাকবে ব্যাধি”।

এটা আহলে হাদীসদের হোটেল সম্পর্কে লেখা, তাদের অপমান ও মর্যদা নষ্ট করার জন্য। এতে যা কিছু তুলে ধরেছি সব মৌলভী ওয়াহীদুজ্জামান থেকে। আসলে মৌলভী ওয়াহীদুজ্জামানের ফিকহ বইয়ের সোর্স আমাদের দেওবন্দী ফিকহ থেকেই প্রতিষ্ঠিত। মূলত: মৌলভী ওয়াহীদুজ্জামান ছিলেন দেওবন্দী যেমনটা তার জীবনী ‘হায়াত ওয়াহীদুজ্জামান’-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

“মৌলভী ওয়াহীদুজ্জামানের শুরুর দিকের জীবনকালে তার পরিবার দেওবন্দী ছিল। জীবনের শুরুতে তিনি দেওবন্দী মাযহাবের দিকে অত্যধিক ঝুকে পড়েছিলেন। সে কারণে তার প্রথম অনুবাদ বই ছিল বিখ্যাত দেওবন্দী ফিকহের কিতাব, শারহ ওয়াকায়াহ। তিনি এটার একটা সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থও উর্দূতে লিখেছিলেন যেখানে তিনি নন-মুকাল্লিদদের দলীলের (অনুমান ভিত্তিক) জবাব দিয়েছেন এবং দেওবন্দী মাযহাব নির্দিষ্ট দলীল সহকারে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। তিনি ছিলেন একজন মুকাল্লিদ এবং এর গোঁড়া সমর্থক। যাহোক তার রিসার্চ ও অনুসন্ধান দিন দিন বাড়তে থাকে এবং তার তাকলীদের উপর নির্ভরশীলতা কমতে থাকে।”

‘হায়াত ওয়াহীদুজ্জামান’ এর লেখক লিখেছেন যে:

“মাওলানার মন দ্রুত পরিবর্তনের অভ্যাস ছিল, যার কারণে তিনি বেশির ভাগ মুহাদ্দীসদের থেকে ভিন্ন মত পোষন করতেন। আর তার এই মতভিন্নতা অধিক পরিমানে জাগ্রত হয় যখন তিনি ‘হিদায়াতুল মাহদী’ লিখেছিলেন। এবং তখন থেকেই আহলে হাদীসরা তার বিরোধিতা করা শুরু করেছিলেন।” [হায়াত ওয়াহীদুজ্জামান, পৃ: ১০১]

সে কারনে মাওলানা তার এক বন্ধুর নিকট একটি চিঠি লিখেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে:

“আমার এক বন্ধু আমাকে এই বলে চিঠি দিয়েছেন যে আমার ‘হিদায়াতুল মাহদী’ কিতাব লেখার পর থেকেই প্রায় সকল বড় বড় আহলে হাদীস যেমন মৌলভী মুহাম্মাদ হুসাইন লাহোরী, মৌলভী আব্দুল্লাহ গাজীপুরী, মৌলভী ফকীরুল্লাহ পাঞ্জাবী, মাওলানা সানাওল্লাহ অমৃতসারী, আমার ব্যাপারে খুবই হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং সাধারণ আহলে হাদীসদের নিকট আমি সম্মান ও আস্থা হারিয়েছি। [হায়াত ওয়াহীদুজ্জামান, পৃ: ১০১]

সুতরাং নির্দিষ্ট একটা সময় যখন আহলে হাদীসদের সাথে তার নামের লেবেল লাগানো হয়, তখন আহলে হাদীসদের অসম্মানিত করার জন্য আমরা ওয়াহীদুজ্জামানের বাজে কথাগুলো তুলে ধরে থাকি, যেহেতু নওয়াব সিদ্দীক খান টাকার বিনিময়ে ওয়াহীদুজ্জামানকে হাদীসের বই অনুবাদ করার কাজে নিয়োজিত করেছিলেন। আর ওয়াহীদুজ্জামান তার পূর্বপুরুষদের মাযহাব (অর্থাৎ হানাফী) অনুযায়ী তার অনুবাদগুলোতে মাতুরীদী ও রাফেযী বিশ্বাসগুলো টেনে নিয়ে এসেছেন, আর দেওবন্দী লোকগুলো তাকে আহলুল হাদীস মনে করতন।

আরেকটি ব্যাপার এই যে আমাদের অন্যতম দেওবন্দী পাকিস্থানের তার্কিক (মুনাযির) মৌলভী আমীন ওকারভী আহলে হাদীসদের নিয়ে একটা পুস্তিকা ছাপিয়েছে যার নাম “গাইর মুকাল্লিদদের ২০০ ফিকহী মাসআলা”। আহলে হাদীসদের অপমান ও মর্যাদাহানী করার জন্য তারা ওয়াহীদুজ্জামানের বাজে কথাগুলোই তুলে ধরেছে প্রকৃতপক্ষে যা আমাদের দেওবন্দী ফিকহের কিতাবেরই কথা। এটাও সাক্ষ্য দেয় যে ওয়াহীদুজ্জামান দেওবন্দী ফিকহ থেকে এসব গোমরাহী কথাবার্তা আহলে হাদীসদের মাঝে টেনে এনেছেন। আর এটাও গোপন নয় যে রাফেযীয়াত ও শিয়ামতবাদের বহু রোগ ও জীবানু তার লেখার মধ্যে পাওয়া যায়।

সুতরাং আমরা শুধু আহলে হাদীসদের অসম্মান ও অপমান করার লক্ষ্যেই তার কথা গুলো তুলে ধরি, প্রকৃতপক্ষে আমরাও জানি যে আহলে হাদীসদের মাযহাব পূরোটাই কুরআন ও সুন্নাহর উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, আর আহলে হাদীসগণ কোরআন-হাদীস বিরোধী কারো ব্যক্তিগত অভিমত গ্রহণ করেনা এবং কোন বিশেষ আলেমকে তাদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবেও প্রচার করে না।

কাস্টমার: আপনার কথা শোনে তো আমার মাথা ঘোরছে এবং আমি অস্বস্থি অনুভব করছি।

হঠাৎ এ সময় কাস্টমারের নাক থেকে রক্তক্ষরণ হতে লাগল। আর ওয়েটার তার রক্ত সংগ্রহ করতে শুরু করলেন।

কাস্টমার: আপনি কি করছেন?

ওয়েটার: আমি এই রক্ত সংগ্রহ করছি যাতে আপনার সমস্যার জন্য সবচেয়ে ভাল প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে পারি। কারো যদি নাক থেকে রক্তক্ষরণ হয় তবে তা আরোগ্যের জন্য রক্ত দিয়ে তার কপালে বা নাকে সুরাহ ফাতিহা লিখা জাযেজ। এমনকি যদি এটি (সুরা ফাতিহাহ) পেসাব দিয়েও লিখা হয় তবুও সেটা জাযেজ। [দুররুল মুখতার, ১/১৫৪]

কাস্টমার: আপনাদের কাজ কারবার পুরো অবিশ্বাসীদের মতো। অবিশ্বাসীরাই কুকুর, বিড়াল, শুকর এবং মৃত বস্তু সহ সকল কিছুই খাওয়া বৈধ মনে করে এবং সেরূপ আপনাদের দেওবন্দী ফিকহও সেগুলোর অনুমোদন দেয়। তাহলে তাদের সাথে আপনাদের পার্থক্য কি রইল? আপনারা অপবিত্র ও মৃত জিনিস খাওয়ার অনুমোদন দেন, আপনারা নোংড়া পানি খাওয়ার অনুমোদন দেন, আপনাদের নিকট বাজে কাজ করা পূন্যের কাজ মনে করা হয়, যেমন (যিনার ভয়ে) হস্তমৈথুন পুণ্যের কাজ, আপনাদের নিকট সমকাম এবং পায়ুপথে সঙ্গম কোন শাস্তিযোগ্য কাজ নয় (তার মানে করা যেতে পারে)। অপরদিকে আপনারা বলেন দেওবন্দী ফিকহ হল কোরআন ও হাদীসের সারাংশ। অথচ কোরআন বলছে এরূপ জিনিস হারাম, আর আপনারা কথা ও কাজে এগুলোকে জায়েজ বানিয়েছেন। এরূপ আচরণ অবিশ্বাসী ও মুশরিকদের আচরণের মতো।

ওয়েটার: এগুলো খাওয়া কিভাবে মুশরিকদের মতো হল, যেগুলো হারাম? (কারণ হারামকে হালাল মনে করা)

কাস্টমার: কোরআন বলছে যে যেসব লোক ইসলামিক হুকুমের বিপরীত কাজ করবে, যেগুলো হারাম তার বিপরীত করবে, তারা এসব নিষিদ্ধ বিষয় নিয়ে লোকজনদের সাথে ঝগড়া করবে, যুদ্ধ করবে তারাই হল মুশরিক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:

“আর যে জন্তু যবাহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়না তা তোমরা আহার করনা। কেননা এটা গর্হিত বস্তু, শাইতানরা নিজেদের সঙ্গী সাথীদের মনে নানা প্রকার সন্দেহ ও প্রশ্ন সৃষ্টি করে, যেন তারা তোমাদের সাথে ঝগড়া ও বিতর্ক করতে পারে। যদি তোমরা তাদের ‘আকীদাহ্ বিশ্বাস ও কাজ কর্মে আনুগত্য কর তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা মুশরিক হয়ে যাবে।” [সূরা-আল আনআম: সূরা-০৬: আয়াত-১২১]

ওয়েটার: গভীর দু:খের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের কিছু আলেম ইমাম আবূ হানিফার কিছু ফিকহী অভিমত ত্যাগ করছেন। যেমন:

১. দেওবন্দী ফিকহ অনুসারে অন্ধ ব্যক্তিদের ইমামতি করা নিষিদ্ধ (কদুরী), যাহোক হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় বহু অন্ধ সালাফ নামাযে ইমামতি করেছেন, যা সুস্পষ্টরূপে দেওবন্দী ফিকহের বিপরীত। তারা গায়ের মুকাল্লিদ হয়ে গেছে।

২. জুমুআর নামায বড় শহরগুলোতে যেখানে কোন শাসক রয়েছেন এবং ইসলামিক শাস্তির বিধান যেখানে বলবতসহ অন্যান্য সুবিধাসমূহ রয়েছে সেখানে পড়া বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব)। কিন্তু ছোট শহর, গ্রাম ও জেলায় জুমুআর নামায পড়া যায়েজ নাই। (দেওবন্দী ফিকহ দেখুন)। আর আমাদের উলামারাই এটার বিরোধী কাজ করছেন।

কাস্টমার: যেসমস্ত লোক তাওরাত অনুসারণ করে কিন্তু তাওরাতে বর্ণিত সকল বিধি বা হুকুম অনুসরণ করে না তাদের ব্যাপারে কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

“যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল তারপর তারা তা বহন করেনি, তারা গাধার মত! যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে। সে সম্প্রদায়ের উপমা কতইনা নিকৃষ্ট, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।” [সুরা-আল জুমু’আহ: সূরা-৬২: আয়াত-৫]

দেওবন্দীদের আচরণ কি তাদের মতো নয়? ভাই, আমি আপনাদের হোটেলের এসব খাবারের অবস্থা দেখে খুই অস্বস্তি, ঘৃনা ও শত্রুতা অনুভব করছি। আমি চিন্তা করে পারি না কিভাবে এগুলো আপনারা খান বা খাওয়ার কথা বলেন। আপনাদের এমন খাবার, হোটেল এবং মাযহাবের প্রশংসা না করে পারি না!

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি আমাকে এমন গোমরাহী থেকে হেফাজত করেছেন, আমি তাকলীদ বর্জন করলাম এবং আজ থেকে কোরআন ও হাদীসের স্পষ্ট দলীলের উপর আমাল করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষন করলাম। আমার বৈশিষ্ট্য হবে আহলে হাদীসদের বৈশিষ্ট, ইন-শা-আল্লাহ!

সবগুলো  পর্ব  একসাথে  পি.ডি.এফ  আকারে  ডাউনলোড  করতে  এখানে  ক্লিক  করুন।

মূল উৎসঃ  Hanafi Deobandi Restaurant – The Famous Indira Gandhi Hotel

অনুবাদকঃ  সত্যান্বেষী  রিসার্চ  টীম

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Advertisements

এই সাইডটি ভিজিট করার সময় আপনি যাদি কোন অশ্লীল এডভাটাইজমেন্ট দেখেন তাহলে একটু হোমপেজের পাশে “এডভাটাইজমেন্ট মুক্ত ব্রাউজিং করুন” পাতাটি দেখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s