রসুল (সা) এর সুন্নতের অনুসরনের গুরুত্ব

ইসলাম ধর্মে যেমন আল্লাহর আনুগত্য করা ফরজ তেমনি রসুল (সা) এর আনুগত্য করা ফরজ যেমন আল্লাহ কোরআনে বলেছেন:

যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।   (সুরা নিসা: ৮০)

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের (সাঃ) আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না। (সুরা মোহাম্মদ:৩০)

তাই আমাদেরকে রসুল (সা) এর সহিহ সুন্নতকে নির্ধিদায় মেনে নিতে হবে যেমনটি ইমাম আহমাদ (রহ) বলতেন: ”আমাকে আল্লাহর কিতাব বা রাসুলুল্লার সুন্না থেকে কোন প্রমান দাও তাহলে আমি মেনে নিব”

সাহাবা (রা) দের সুন্না অনুসরনের দৃষ্টান্ত:

সাহাবা (রা) রসুল (সা) এর সমুহ কথা ও কাজকে সম্পুন ভাবে অনুসরন করার চেষ্টা করতেন যেভাবে নবী (সা)কে করতে দেখতেন বা তার কাছে শুনতেন।

১. আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন: একদা রসুল (সা) সাহাবিদের সালাত পড়াচ্ছিলেন তখন সালাত অবস্থায় তিনি জুতা খুলে বামপার্শে রেখে দিলেন। সাহাবারা (রা) যখন দেখলেন তখন তারাও জুতা খুলে ফেললেন। রসুল (সা) সালাত শেষে জিজ্জাসা করলেন; তোমাদের জুতা খুলে ফেললে কেন? তারা বললেন: আমরা আপনাকে জুতা খুলতে দেখেছি বিধায় আমরাও খুলে ফেলেছি। রসুল (সা) বললেন: আমাকেতো জিবরীল (আ) এসে বলে দিলেন যে, আমার জুতায় ময়লা ছিল। অতপর সাহাবিদের (রা) নছিহত করে বললেন: যখন মসজিদে সালাত আদায় করতে আসবে তখন জুতাকে ভাল ভাবে দেখেনিবে। যদি ময়লা থাকে তাহলে তা পরিস্কার করে নিবে তারপর সালাত আদায় করবে। (হাদিসটি সহিহ, সুনানু আবিদাউদ হা/৬০৫)

২. নাফে (রহ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) একদা সংগীত যন্ত্রের স্বর শুনে কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিলেন এবং রাস্তার পার্শে অনেক দুরে চলে গেলেন এবং আমাকে জিজ্জাসা করলেনঃ হে নাফে (রহ) তুমি কি কিছু সুনতে পাও? আমি বললাম না, তখন তিনি আঙ্গুল কান থেকে বের কলেন এবং বললেনঃ আমি রসুল (সা) এর সাথে ছিলাম তিনি এরুপ একটি স্বর সুনে তাই করেছিলেন যা আমি এখন করলাম। নাফে বলেনঃ তখন আমি সল্প বয়সী ছিলাম। (হাদিসটি সহিহ, সুনানু আবিদাউদ হা/৪১১৬)

৩. আবু আইয়ুব আনসারী (রা) বলেনঃ রসুল (সা) এর কাছে যখন খারার নেয়া হত তখন তিনি তা ভক্ষন করার পর আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। একদিন রসুল (সা) খানা না খেয়েই আমার নিকট পাঠিয়ে দিলেন, কেননা তাতে রসুন ছিল।আমি জিজ্জাস করলাম রসুন কি হারাম? তিনি বললেনঃ না, তবে এর গন্ধের কারনে একে পছন্দ করি না। আবু আইয়ুব (রা) বললেনঃ যে বস্তু আপনার কাছে অপছন্দনীয় তা আমার কাছেও অপছন্দনীয়।(মুসলিম হা/২০৫৩)

৪. জাবের (রা) বলেনঃ একদা জুমার দিনে রসুল (সা) খুৎবা দেয়ার জন্য তাশরিফ আনয়ন করলেন এবং বললেন, লোক সকল! বসে যাও। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) যখন সুনলেন তখন তিনি দরজায় বসে গেলেন। রসুল (সা) দেখে বললেনঃ আব্দুল্লাহ! মসজিদের ভিতরে এসে বস। (হাদিসটি সহিহ, সুনানু আবিদাউদ হা/২০৩)

এই ৪ টি হাদিসেই শেষ নয় আরোও অনেক হাদিস আছে যেগুলেতে পাওয়া যায় কিভাবে সাহাবারা (রা) রসুল (সা) কে অনুসরন করতেন। তাই বিস্তারিত জানতে হলে হাদিসের জ্জানভান্ডারে দেখুন ও নিজে অনুসরন করুন অপরকে শিক্ষা দান করুন।

আরোও বিস্তারিত জানতে ইত্তিবায়ে সুন্নাতে রসুল (সা) বইটি পড়ুন

জাজাকাল্লাহু খাইরান।

Advertisements

এই সাইডটি ভিজিট করার সময় আপনি যাদি কোন অশ্লীল এডভাটাইজমেন্ট দেখেন তাহলে একটু হোমপেজের পাশে “এডভাটাইজমেন্ট মুক্ত ব্রাউজিং করুন” পাতাটি দেখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s