যখন ফেতনা (বিদ’আত) আস্ঠেপৃস্ঠে জরিয়ে ধরবে

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে মওকুফ হিসেবে সহিহ সনদে বর্ণিত, অবশ্য এটি হুকুম গত ভাবে মারফু,

তিনি (ইবনে মাসউদ (রা)) বলেন,

তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন ফেতনা (বিদ’আত) তোমাদেরকে এমন ভাবে আস্ঠেপৃস্ঠে জরিয়ে ধরবে যে, এই ফিতনার মধ্যেই তোমাদের বড়রা বৃদ্ধ হবে এবং ছোটরা বড় হবে। মানুষ বিদ’আতের উপরই চলতে থাকবে । এমতবস্থায় তারা সেটাকেই সুন্নত হিসেবে গ্রহণ করেব। যখন কোন বিদ’আতকে ত্যাগ করা হবে তখন বলাহবে, সুন্নাহ কে পরিত্যাগ করা হয়েছে? লোকেরা বলল এটা কখন হবে? তিনি বললেন, (ক) যখন তোমাদের আলেমরা মৃত্যু বরণ করবেন ও মুর্খদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। (খ) যখন সাধারন আলেমের সংখ্যা বৃদ্দি পাবে কিন্তু জ্জানী আলেমের সংখ্যা কমে যাবে। (গ) যখন নেতার সংখ্যা বৃদ্দি পাবে কিন্তু আমানতদারের সংখ্যা কমে যাবে। (ঘ) যখন আখেরাতের কাজের মাধ্যমে দুনিয়া তালাশ করা হবে এবং দ্বীন ব্যাতিত অন্য উদ্দেশ্যে জ্জানার্জন করা হবে।

(দারেমী হা/১৯০ “যুগের পরিবর্তন ও তার মধ্যে যা ঘটেবে” অনুচ্ছেদ-২২, দারেমী দুটি সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। যার একটি সহিহ অন্যটি হাসান। হাকেম ৪/৫১৪-১৫ হা/৮৫৭০, ফিতনা ও মালাহিম অধ্যায়, ছহিহ তারগীব হা/১১১)

নাসিরউদ্দিন আলবানি বলেছেন:

আমার বক্তব্য হল এই হাদিসটি রসুল (সা) এর নবুআত ও রিসালাতের সত্যতা নিদর্শন । কারন বর্তমান যুগে এই হাদিসটি প্রত্যেকটি অংশ সত্য প্রতিপন্ন হয়েছে। তন্মদ্ধে অন্যতম হল বিদ’আতের আধিক্য এবং তার প্রতি মানুষের আকর্শন এমন এক পর্যয়ে উপনিত হয়েছে যে, শেষ অবধি তারা বিদ’আতকেই সুন্নত হিসেবে গ্রহন করেছে এবং উহাকেই অনুসরনীয় ধর্মাচরনে পরিনত করেছে। যখন আহলুস সুন্নাহ (হাদিসের অনুসারী) প্রকৃত অর্থে বিদ’আত থেকে বিমুখ হয়ে রসুল (সা) এর সহিহ হাদিসকে আকড়ে ধরে, তখন বলা হয়- “সুন্নাতকে পরিত্যাগ করা হয়েছে”।

(তারাবিহ ও ইতিকাফ পৃ: ১০)

লিংক : বই তারাবিহ ও ইতিকাফ

 

আমিও একমত।হাদিসটি সবাই একটু মিলিয়ে দেখবেন বর্তমান সমাজের সাথে।

নোট:

মাওকুফ (موقوف)

যে হাদীসের বর্ণনা-সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে, অর্থাৎ যে সনদ-সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার (اثار) ।

মরফূ’ (مرفوع)

যে হাদীসৈর সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসূলুাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যš— পৌঁছেছে, তাকে মরফূ’ হাদীস বলে।

Advertisements