জানার মাঝে অনেক অজানা……..

Image

‘’শেখ আবদুল ওয়াহেদ নামে একজন বিখ্যাত সুফি ছিলেন। কথিত আছে, চল্লিশ বৎসর যাবৎ তিনি এশার অযু দ্বারা ফজরের নামাজ পড়িয়াছেন।‘’ (ফাজায়েলে আমল; ফাজায়েলে নামাজ; তাবলিগী কুতুবখানা সংশোধিত সংস্করন; ১২ মার্চ ১৯৯০ ইংরেজি; পৃষ্ঠা নঃ ৯২) 

অনেকে এইরখম অনেক বুজুর্গি কাহিনি বর্ণনা করে বলে থাকে যে, অমুক বুজুর্গ/অলি/ইমাম ইত্যাদি ৪০,৬০,৯০ বৎসর এক অজুতে সালাত আদায় করাছে। আসুন দেখি রাসুল (সা) কি বলেন?  

আনাস (রা) বলেন যে, তিন ব্যক্তি নবী (সা) এর স্ত্রীদের বাসায় এলেন। তাঁরা নবী (সা) এর ইবাদত সম্পর্কে জিঞ্জাসা করলেন। অত:পর যখন তাঁদেরকে এর সংবাদ দেওয়া হল তখন তাঁরা যেন তা অল্প মনে করলেন এবং বললেন,‘আমাদের সঙ্গে নবী (সা) এর তুলনা কোথায়? তাঁর তো আগের ও পরের সমস্ত গোনাহ মোচন ক’রে দেওয়া হয়েছে। (সেহেতু আমাদের তাঁর চেয়ে বেশী ইবাদত করা প্রয়োজন)।’ সুতরাং তাঁদের মধ্যে একজন বললেন, ‘আমি সারা জীবন রাতভর নামায পড়ব।’ দ্বিতীয়জন বললেন, ‘আমি সারা জীবন রোযা রাখব, কখনো রোযা ছাড়ব না।’ তৃতীয়জন বললেন, ‘আমি নারী থেকে দূরে থাকব, জীবনভর বিয়েই করব না।’ অত:পর রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁদের নিকট এলেন এবং বললেন, “তোমরা এই এই কথা বলেছ? শোনো! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে বেশী আল্লাহকে ভয় করি, তার ভয় অন্তরে তোমাদের চেয়ে বেশী রাখি। কিন্তু আমি (নফল) রোযা রাখ এবং রোযা ছেড়েও দিই, নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই। আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”
( সহীহুল বুখারী ৫০৬৩,মুসলিম ১৪০১, নাসায়ী ৩২১৭, আহমাদ ১৩১২২, ১৩০১৬, ১৩৬৩১)

এখানে একজন সাহাবা (রা) বলেছেন যে ”তিনি আজীবন রাতভর নামাজ পড়বেন” তার উত্তরে রসুল (সা) বলেছেন, “আমি নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই “ সুতরাং যে আমার সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”

এখানে রসুল (সা) অথবা কোনও সাহাবা (রা) জদি সারা রাত নামাজ পড়তেন তাহলে এটি মানা যেত কিন্তু তিনি তার সুন্নতকে ছেড়েদেয়া ব্যাক্তি সম্মন্ধ্যে বলেছেন যে “সে আমার দলভুক্ত না” 

এখন এই বুজুর্গরা কি রাসুল (সা), সাহাবা (রা) দের চেয়েও আল্লাহর কাছে বেশি

প্রিয়????বেশি ইবাদত গুজার???? বেশি আল্লাহ ভক্ত???? বেশি ভাল???? 

কেউ যদি মনে করেন তাহলে তিনি মানতে পারেন কিন্তু আমি তার বিপরিত। কেননা রসুল (সা) বলেছেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে বেশী আল্লাহকে ভয় করি, তার ভয় অন্তরে তোমাদের চেয়ে বেশী রাখি।” 

আয়েশা (রা) হতে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, যখন নামায পড়া অবস্থায় তোমাদের কারো তন্দ্রা আসবে, তখন তাকে ঘুমিয়ে যাওয়া উচিত, যতক্ষন না তার ঘুম চলে যাবে। কারন, তোমাদের কেউ যদি তন্দ্রা অবস্থায় নামায পড়ে, তাহলে সে অনুভব করতে পারবে না যে, সম্ভবত: সে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে প্রকৃতপক্ষে নিজেকে গালি দিচ্ছে। 
(সহীহুল বুখারী ২১২, মুসলিম ৪৮৬, তিরমিযী ৩৫৫. নাসায়ী ১৬২, আবু দাউদ ১৩১০, ইবনু মাজাহ ১৩৭০, আহমাদ ২৩৭৬৬, ২৫১৩৩, ২৫১৭১, ২৫৬৯৯, মুয়াত্তা মালেক-২২৫৯, দারেমী ১৩৮৩)

হে দ্বীনি ভাই, তাই এই সকল বানোয়াট কিসছছা কাহিনি থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

এখন আসেন দ্বিতীয় বিষয়ঃ 

এই সহিহ হাদিস থাকার পরও অনেকে এই বিষয় টিকে সঠিক সাব্বস্ত করার জন্য কোরআন হাদিস থেকে পাইতারা করেন তারা বলেন “আল্লাহ ইচ্ছা করলে হতেও পারে” 

ঠিক এই ধরনের কথাও কাদিয়ানি/ ভণ্ড নবি দাবিদার রাও করে।

কি ভাবে তা বলছি, তারা বলে দেখেন আল্লাহ বলেছেন, ”ইন্নালহা আলা কুল্লি সইইন কাদির” অর্থ: নিশ্চই আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বচ্চ ক্ষমতাবান এবং সে কোরআনের কোন কোন সুরায় কোন আয়াতে, আয়াত সংখ্যা কত, কতবার বলা হয়েছে সব বলবে।

এখন আপনাকে বলবে বলেনতো তাহলে ”আল্লাহর কি ক্ষমতা নাই একজন নতুন নবী পাঠানোর?”

এখন আপনি কোন দিকে যাবেন? যদি বলেন যে ক্ষমতা নাই তাহলে ক্ষমতা অস্বিকার করার কারনে কাফের হয়ে যাবেন
আবার যদি বলেন যে হ্যা ক্ষমতা বান তাহলে কাদিয়ানি নবীকে বিশ্বাস করতে হবে তাতেও আপনি কাফের হয়ে জাবেন। 

 অপব্যখ্যার লেটেস্ট সংস্করন

ঠিক একই ভাবে এনারা বলছেন “আল্লাহ ইচ্ছা করলে হতেও পারে” আল্লাহ কি পারেন না

এখন আপনি কোন দিকে জাবেন তা আপনার উপর ছেড়ে দিলাম। সেই বুজুর্গ এর ৪০,৬০,৯০ বছর এক উজুতে সালাত পরা মানবেন নাকি রাসুল (সা) এর সাহিহ হাদিস মানবেন। কেননা রসুল (সা) বলেছেন, “আমি নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই “ সুতরাং যে আমার সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”

এই হল ইলিয়াসি তাবলীগ জামাত। 

হে মুসলিম ভাই আপনি কোথায় ফিরে চলছেন???একবার

ভাবুন??? 

আবূ হুরাইরাহ (রা) হতে বর্নিত, নবী (সা) বলেন, “নিশ্চয় দ্বীন সহজ। যে ব্যক্তি অহেতুক দ্বীনকে কঠিন বানাবে, তার উপর দ্বীন জয়ী হয়ে যাবে। (অর্থাৎ মানুষ পরাজিত হয়ে আমল ছেড়ে দিবে।) সুতরাং তোমরা সোজা পথে থাক এবং (ইবাদতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। তোমরা সুসংবাদ নাও। আর সকাল-সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশ ইবাদত করার মাধ্যমে সাহায্য নাও
(সহীহুল বুখারী ৩৯, ৫৬৭৩, ৬৪৬৩, মুসলিম ২৮১৬, নাসয়ী ৫০৩৪, ইবনু মাজাহ ৪২০১, আহমাদ ৭১৬২, ৭৪৩০, ৭৫৩৩, ২৭৪৭০)

আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার মত তাওফিক দিন আমিন।

Advertisements