হৃদয় কে একটু বেশি স্পর্শ করে যায়।

Image

 

 

কুরআনের কিছু আয়াত হৃদয় কে একটু বেশি স্পর্শ করে যায়। তেমনি এক আয়াত সুরাহ আলে ইমরানের এই আয়াতটি।

আর মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ তো নয়! তাঁর পূর্বেও বহু রসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে?… (৩-১৪৪)

অনেক বছর আগে, যখন ইসলাম নিয়ে পড়ালেখা করছি, তখন এই আয়াতটি পড়ে এক অদ্ভুত শিহরন হয়েছিল। আসলেই তো, মুহাম্মদ(স) একজন নবী। তিনি চলে গিয়েছেন, তারা সাহাবা গনও চলে গিয়েছেন। তার আগেও অনেক নবী এসেছিলেন, তারাও চলে গিয়েছেন। কিন্তু যে আল্লাহর দিকে তারা ডাক দিয়ে গেছেন, সেই আল্লাহ তো চিরন্তন। যুগে যুগে কত হাজার মুমিন আল্লাহর কালামকে সমুন্নত রাখতে রক্ত দিয়েছেন, দিয়ে যাচ্ছেন এবং যাবেন। কিন্তু যে আল্লাহ চিরন্তন তাঁর কালাম পৃথিবীর বুক থেকে হারাবার নয়। একদল শেষ হয়ে গেলে আরেক দল দাড়িয়ে যাবে তাঁর পথে।

এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল, উহুদ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। কাফেররা ছড়িয়ে দেয় মুহাম্মদ (স) নিহত হয়েছেন। ফলে মুসলিমদের মাঝে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। মুসলিমরা দলে দলে যুদ্ধের ময়দান থেকে পালাতে শুরু করে।

এমতাবস্থায়, হযরত মুসাইয়েব ইবনে উমায়ের (র) মুসলিমদের পিছন থেকে ডাকতে থাকেন এই বলে ” ওয়া মা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসুল… (আর মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ তো নয়) ” এবং উনি মুসলিমদের পতাকা তুলে ধরে রাখেন শাহাদাত বরন করা পর্যন্ত।

তাঁর এই কথাই পরবর্তীতে আল্লাহ(সুব) কুরআনে আয়াত আকারে নাযিল করেন।

যুদ্ধ শেষে তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখে আল্লাহর রাসুল (স) কেঁদে ফেলেন।হযরত মুসাইয়েব(র) ছিলেন মক্কার অন্যতম ধনী পরিবারের সন্তান। ইসলামের জন্য তিনি সবকিছু ত্যাগ করে প্রথমে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন, পরবরতিতে মদিনায়। তাঁর কাফনের জন্য এক টুকরো কাপড় ব্যাতিত আর কিছু পাওয়া গেলনা। আল্লাহর রসুল বললেন পায়ের অংশ ঘাস দিয়ে ঢেকে দিতে। অতঃপর তিনি তাঁর লাশের পাশে দাঁড়িয়ে এই আয়াতটি পড়লেন–

মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি। (৩৩-২৩ )

হজরত খাব্বাব ইবনুল আরাত বলেন বলেন, আমরা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই রাসূলুল্লাহ্(সা)-এর সংগে হিজরত করেছিলাম। ফলে আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের পুরস্কার সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে। আমাদের কতক দুনিয়াতে পুরস্কার ভোগ না করেই চলে গিয়েছেন। মুসাইয়েব ইবনে উমায়ের (রা) তাদের মধ্যে একজন।… (বুখারী ৫/৫৯/৩৭৮)

Advertisements